জনগণের দাবি ও আন্তর্জাতিক চাপে সরকার পালানোর পথ খুঁজছে: বিএনপি নেতা আজিজুল বারী
জনগণের দাবি ও আন্তর্জাতিক চাপে সরকার পালানোর পথ খুঁজছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী। আজ শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে খুলনা নগরের কে ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে খুলনা মহানগর বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচির আগে এক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। সারা দেশে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং ১০ দফা দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনায় পদযাত্রা ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আজিজুল বারী বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অধীনে আর কোনো নির্বাচন হবে না, দেশের জনগণের দাবির মুখে ও আন্তর্জাতিক চাপে সরকার পালানোর পথ খুঁজছে। তারা বিভিন্ন দেশে ছুটে গিয়েও হালে পানি পায়নি। বিগত ১৫ বছরে যেসব হত্যা, গুম, খুন হয়েছে, তার বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি ঘোষণার পর সরকার দিশাহারা হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা একেক সময় একেক কথা বলছেন। সরকারের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। ভবিষ্যতে আবারও সাজানো–পাতানো নির্বাচন করার জন্য সরকার প্রশাসনে রদবদল শুরু করেছে। কাউকে কাউকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে, কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, এ সরকারের আমলে কেউই নিরাপদ নন। আলেম-ওলামারাও নিরাপদ নন। সিটি নির্বাচনের দিনে বরিশালে একজন আলেমের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে।
বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে আজিজুল বারী বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী। বাংলাদেশের সংবিধানের ওপর আপনাদের শপথ আছে, কিন্তু কোনো ফ্যাসিবাদী সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে নির্বিচার বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর পরিণাম ভালো হবে না। পতন নিশ্চিত একটি সরকারের হয়ে খুলনার পুলিশ প্রশাসন যা করছে, তা মোটেই কাম্য নয়।’
দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা আজিজুল বারী। তিনি বলেন, ‘আমাদের লড়াই প্রশাসনের বিরুদ্ধে নয়, লড়াইটা ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে। দেশের জনগণ জেগে উঠেছে। জনগণের আন্দোলনে সরকার ভীত। তাই সরকারকে বিদায় করাই এখন জনগণের একমাত্র লক্ষ্য। শিগগির বিদায় না নিলে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।’
পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ডসহ মিছিল নিয়ে মহানগর বিএনপির নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল পাঁচটার দিকে সেখান থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। এতে খুলনা নগরের ৩১টি ওয়ার্ড বিএনপির নেতা-কর্মীসহ ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেন। কর্মসূচি ঘিরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়সংলগ্ন সদর থানা মোড় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা থাকলেও তারা নীরব ভূমিকায় ছিল। পদযাত্রাটি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নগরের জেলা পরিষদ ভবনসংলগ্ন কেসিসি মার্কেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে (১৬ জুন) তৎকালীন বাকশাল সরকার বাংলাদেশের চারটি সরকার নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা রেখে দেশের সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল। অবৈধ সরকার দেশকে আবারও আগের বাকশালি পন্থায় পরিচালনা করতে চাচ্ছে, কিন্তু এ দেশের মানুষ সে সুযোগ আর দেবে না।
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘খুলনায় বিএনপির কর্মসূচি এলেই পুলিশ আমাদের রুট নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু ভবিষ্যতে আর কোনো কর্মসূচি পুলিশের নির্ধারিত রুটে পালিত হবে না। কর্মসূচি পালিত হবে বিএনপির নির্ধারিত রুটে।’
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান, বিএনপি নেতা আবু হোসেন, খান জুলফিকার আলী, স ম আবদুর রহমান, সাইফুর রহমান, বেগম রেহেনা ঈসা, মাহমুদ আলী, মো. রকিব মল্লিক, শের আলম, মাহাবুব হাসান, শামীম কবীর, একরামুল হক, আশরাফুল আলম খান, সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক কে এম হুমায়ূন কবীর, সদস্যসচিব মোল্লা ফরিদ আহমেদ, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, সদস্যসচিব সৈয়দ সাজ্জাদ আহসান, দৌলতপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মুরশিদ কামাল, সদস্যসচিব শেখ ইমাম হোসেন প্রমুখ।