দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট যানবাহনশূন্য,  গাড়ির জন্য ফেরির অপেক্ষা

যানবাহনের চাপ না থাকায় ঘাটে ফেরিগুলো এভাবেই নোঙর করে থাকছে। মঙ্গলবার বিকেলে যানবাহনশূন্য পাটুরিয়ার ৪ নম্বর ফেরিঘাট
ছবি: প্রথম আলো

একসময় ফেরির জন্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করত। যানবাহনের চাপে গাড়ির লাইন ফেরিঘাট ছাপিয়ে মহাসড়কের পাঁচ-ছয় কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত চলে যেত। দীর্ঘ সময় আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো গাড়ির চালক, সহকারী ও যাত্রীদের। মাস ছয়েক আগেও এই চিত্র ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে।

পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহন ও যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে যাওয়ার পর এখন অধিকাংশ সময়ই ঘাট ফাঁকা থাকছে। ফেরিগুলো গাড়ির অপেক্ষায় ঘাটে বসে থাকছে। এমনকি কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে ফেরিগুলোকে ঘাটে নোঙর করে রাখতেও বাধ্য হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কোথাও কোনো গাড়ি নেই। ৩, ৪ ও ৬ নম্বর ঘাটে একটি করে ফেরি থাকলেও গাড়ি না থাকায় ফেরিগুলো অপেক্ষা করছে।

বেলা তিনটার দিকে ৭ নম্বর ঘাটে রো রো (বড়) বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ও ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি হাসনাহেনাকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কয়েকটি গাড়ি এসে সরাসরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরে ফেরিতে ওঠার পর বেলা ৩টা ২০ মিনিটে সেটি ঘাট ছেড়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা সময় নিয়ে বিকেল সোয়া চারটার দিকে ফেরিটি পাটুরিয়ার ৪ নম্বর ঘাটে ভেড়ে।

দৌলতদিয়ায় ঘাটের পন্টুন–শ্রমিক মনির হোসেন বলেন, ‘আগে ৫ নম্বর ঘাটে পন্টুনের রশি বাঁধার কাজ করতাম। পদ্মা সেতু চালুর পর ঘাটে আগের মতো কোনো গাড়ি না থাকায় কাজও অনেক কমে গেছে। এরপর কয়েক দফা নদীভাঙনে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ নম্বর ঘাটটি বন্ধ হয়ে যায়। একপ্রকার বেকার হয়ে পড়ি। বাধ্য হয়ে ৭ নম্বর ঘাটের একটি চায়ের দোকানে কাজ করছি।’

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পাটুরিয়া ঘাটও যানবাহনশূন্য দেখা যায়। ৫ নম্বর ঘাটে ভাসমান কারখানার সঙ্গে তিনটি রো রো ফেরি নোঙর করে ছিল। পাশে আরেকটি ছোট ফেরিও বাঁধা ছিল। এ ছাড়া ৪ নম্বর ঘাটেও একটি রো রো ও একটি ছোট ফেরি গাড়ির অপেক্ষায় বসে ছিল।

ঘাটের পরিবহন শ্রমিক শামীম হোসেন বলেন, ‘আগে ঘাটে পরিবহনের চাপে নিজেরা কোথাও সরতে পারতাম না। এখন ঘাটে সারা দিনে একেক কোম্পানির গাড়ির সংখ্যা তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসায় আমাদের কাজও কমে গেছে। এ কারণে অনেকে ঘাট ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছে।’

আনোয়ার হোসেন নামের ফেরির একজন মাস্টার বলেন, ‘আমরা আগে একটু বিশ্রাম নিতে পারতাম না। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা আমাদের নিয়মিত গাড়ি পারাপার করতে হতো। বর্তমানে গাড়ির জন্য ঘাটেই আমাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। মাঝেমধ্যে দুই-চারটি গাড়ি নিয়েই ঘাট ছাড়তে হয়।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে গাড়ি অর্ধেকের নিচে নেমে যাওয়ায় আমরা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০টি ফেরি চালু রেখেছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি এমন হয়েছে, অধিকাংশ সময় গাড়ির জন্য ফেরিগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’