সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সোমবার যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে
ছবি: প্রথম আলো

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সরকারের এখন অ্যাসিড টেস্ট চলছে। সম্প্রতি দলীয় ক্যাডার রাস্তায় নামিয়েছে সরকার। পুলিশ তাদের কতটা রক্ষা করতে পারে, এটার এখন তারা এসিআর লিখছে। কারণ, কখনো কোনো প্রশাসন দীর্ঘ মেয়াদে স্বৈরাচারী–ফ্যাসিবাদী সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারেনি।সোমবার বিকেলে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর অব্যাহত রাজনৈতিক সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে যশোর শহরের লালদীঘিপাড়ে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তা করেন না। আর যা করেন, তা বলেন না। তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বললেন, বিএনপির কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হবে না। অথচ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ জনগণের দাবি নিয়ে বিএনপির আন্দোলনে নামার ১০ দিনে সারা দেশে অন্তত ১ হাজার মামলা হয়েছে। তিন হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুলিতে দুজন নিহতও হয়েছেন। আহত হয়ে ৩৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, প্রশাসনের মধ্যে অত্যুৎসাহী পুলিশ সদস্য আছেন। যাঁরা রাতের আঁধারে ভোট কাটতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। হাসিনা সরকার টিকে থাকার চেয়ে তাঁরা বেশি আতঙ্কিত, ভবিষ্যতে তাঁদের চাকরি থাকবে কি না, তা নিয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করতে পারি। বাধা এলে আমরা প্রতিরোধ করব। আক্রমণ এলে প্রতি–আক্রমণ করব। কিন্তু জনগণের রেভিনিউর টাকা দিয়ে কেনা গুলি সরকারকে টেকানোর জন্য ব্যবহার করছে হাতিয়ার বাহিনী। সেই হাতিয়ার বাহিনীকেও মোকাবিলায় প্রস্তুত আছি। ইতিমধ্যে আমাদের দুই ভাই রাজপথে শহীদ হয়েছেন এই হাতিয়ার বাহিনীর হাতে। এই সরকারের পতন নিশ্চিত করতে হলে রাজপথ রঞ্জিত হবে, জেনেশুনেই আমরা এই আন্দোলনে শামিল হয়েছি। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম। আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম, বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ড, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সৈয়দ সাবেরুল হক প্রমুখ।

সম্প্রতি যশোর শহরের লালদীঘিপাড়ে বিএনপির কার্যালয় ও দলের স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামসহ জেলার চার শীর্ষ নেতাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরে অভিযোগ রয়েছে। সোমবার দুপুরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ছাড়াও অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদসহ বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিএনপির প্রতিনিধিদলটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শহরের পিলু খান সড়কে প্রয়াত তরিকুল ইসলাম; উপশহরের বিএনপির জেলা কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ সাবেরুল হক, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান; শহরের ধর্মতলা এলাকায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করে।

পরিদর্শন শেষে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তরিকুল ইসলামের বাড়ি এ অঞ্চলের রাজনীতিকদের কাছে রাজনৈতিক তীর্থস্থান। সেই বাড়িতে পরপর তিনবার হামলা করে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীকেও হার মানিয়েছে।