মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের বাড়িঘর নদের তীরে। যে কোনো সময় ভাঙনে ঘর-বাড়ি নদে চলে যেতে পারে। ভাঙন রোধে পাউবোকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

নদের ভাঙন থেকে বসতভিটা, মসজিদ ও আবাদি জমি রক্ষার জন্য মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের কোমরপুর ঘাঘটপাড়ার বাসিন্দাদের পক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য (রংপুর-৫) এইচ এন আশিকুর রহমান গত ১৯ জুন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এর আগে ৭ জুনও আবেদন জানানো হয়। এলাকাবাসীও পাউবোর রংপুর কার্যালয়ে গিয়ে দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঘাঘট নদের অব্যাহত ভাঙনে রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বখতিয়ারপুর উচাটারী মহল্লার ৪টি পরিবারের ১০টি ঘর বিলীন হয়ে গেছে। ঈদগাহ মাঠসহ আরও ৬ পরিবারের ১৫টি বাড়ি নদের গর্ভে বিলীনের ঝুঁকিতে রয়েছে। পাউবো ও সিটি করপোরেশনকে একাধিকবার জানানোর পরও ভাঙন প্রতিরোধে এক বস্তা বালুও ফেলা হয়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বলেন, ১০ শতক জমির ওপর নির্মিত আধপাকা বাড়ি অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যের জমিতে টিনের ঘর তুলে কোনো রকমে পরিবার নিয়ে বাস করছেন।

শরিফুল মিয়া বলেন, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রের সঙ্গে দেখা করে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান জানান, তিনি ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়েছেন। পাউবোকে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ভাঙন রোধে ঘাঘট নদের ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙন ঠেকাতে ঘাঘট নদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই প্রকল্প সমীক্ষা পর্যায়ে আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন