ঐতিহ্যবাহী বান্নি মেলা ঘিরে উরদিঘী গ্রামের বাড়ি বাড়ি চলছে উৎসব

ঐতিহ্যবাহী বান্নি মেলা ঘিরে উৎসবে মেতেছেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকার মানুষছবি: প্রথম আলো

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের উরদিঘী গ্রামে চলছে সাধক পীর পাহাড় খানের নামে গ্রামীণ ‘বান্নি মেলা’। গতকাল রোববার শুরু হওয়া তিন দিনের এ মেলা ঘিরে এলাকায় দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ।

মেলার ঐতিহ্য অনুযায়ী এ এলাকার পরিবারগুলোর যার যেখানে আত্মীয়স্বজন রয়েছেন, সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়। বিবাহিত মেয়েরা স্বামী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে বেড়াতে আসেন বাবার বাড়ি। যাঁরা ঢাকাসহ দূরদূরান্তে চাকরি–বাকরি করেন, তাঁরাও ছুটি নিয়ে এ সময় চলে আসেন নিজ গ্রামে। ঘরে ঘরে ভাজা হয় মুড়ি, মুড়কি, বিন্নি ধানের খই। ফলে গুণধর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার প্রতিটি বাড়ি এখন আত্মীয়স্বজনে ভরপুর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধক পীর পাহাড় খানের নামে প্রায় শত বছর ধরে তাঁর ভক্তরা উরদিঘী গ্রামে ওরসের আয়োজন করে আসছে। সেই ওরস ঘিরেই গ্রামীণ এ মেলার উৎপত্তি। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতিবছরের ১৩ ফাল্গুন ওরস ও মেলার তারিখ। বিক্রেতারা আসা শুরু করেন তিন–চার দিন আগে থেকে। মেলা চলে ১৫ ফাল্গুন পর্যন্ত।

নানা সামগ্রী নিয়ে মেলায় হাজির হয়েছেন শত শত বিক্রেতা
ছবি: প্রথম আলো

গতকাল বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, ঐতিহ্যবাহী নানা সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন শত শত বিক্রেতা। শখের হাঁড়ি, মাটির সরা, শোলার ফুল, মাটির পুতুল, কাঠের একতারা, বাঁশের বাঁশি, নকশি কাঁথা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, মোয়া, মুড়কি, মণ্ডা, মিঠাই, বাতাসা, লাল গুড়ের জিলাপিসহ সবই পাওয়া যাচ্ছে মেলায়।

মেলায় গরু, হাতি, ঘোড়া, উট, বক, পুতুল ইত্যাদি মাটির তৈরি খেলনা ছাড়াও গৃহস্থালি অনেক জিনিস উঠেছে। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলাসহ নানা খেলনা।

কবির উদ্দিন নামের একজন বিক্রেতা বলেন, গতকাল প্রথম দিন হলেও গত শনিবার দোকানপাট সব বসেছে। শুরু থেকে বেচাকেনা মোটামুটি ভালো হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মূল মেলা চলবে। তবে কাঠের মেলা প্রায় এক মাসব্যাপী থাকবে।

ফারুক মিয়া নামের একজন ক্রেতা বলেন, এবারের মেলায় জিনিসপত্রের দাম বেশি। আগে যে জিনিসের দাম ১০০ টাকা ছিল, এবার সেটা দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

প্রতিবছরের ১৩ ফাল্গুন ওরস ও মেলার তারিখ। বিক্রেতারা আসা শুরু করেন তিন–চার দিন আগে থেকে
ছবি: প্রথম আলো

মেলার পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. শাহীন খান বলেন, তাঁর দাদা মরহুম হিরু মিয়া ছিলেন সাধক পীর পাহাড় খানের ভক্ত অনুরাগী। তিনিই পীর পাহাড় খানের নামে এখানে ওরসের আয়োজন করেন। সেখান থেকেই এ মেলার উৎপত্তি। এখন দিন দিন এ মেলার প্রসার ঘটছে। প্রতিবছর মেলা ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।