খানাখন্দে ভরা সড়ক, মানুষের ভোগান্তি

পৌরসভার ৮৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। প্রায় ৪৮ কিলোমিটার সড়ক দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মোহাম্মদ আলী সড়কে পিচঢালাই উঠে গেছে। খানাখন্দে জমেছে বৃষ্টির পানি। সাম্প্রতিক ছবি
প্রথম আলো

পিচঢালাই উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দের। সেখানে জমেছে বৃষ্টির পানি। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার পাড়া-মহল্লার অধিকাংশ সড়কের অবস্থা এখন বেহাল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

পৌরসভার গড়েয়া এলাকার বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রুহুল আমিন দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরেছেন। সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে শহরে ঘুরতে বের হন। তিনি বলেন, বছর দশেক আগে শহরের রাস্তাঘাট ভালো ছিল। এখন পাড়া-মহল্লার সড়কগুলো একেবারে বেহাল। শহরের উঁচু উঁচু দালানকোঠা নির্মাণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সড়ক উন্নয়নে কাজ করা হয়নি।

পৌরসভার প্রকৌশল শাখা সূত্র জানায়, ৩০ বর্গকিলোমিটার এই পৌরসভায় ১৩৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ কিলোমিটার পিচঢালাই আর ৫০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোনো গোরস্তান থেকে সেনুয়া হয়ে গোয়ালপাড়া সড়কের অবস্থা খারাপ। সড়কটির প্রায় পুরো অংশের পিচঢালাই ও ইট-খোয়া উঠে খানাখন্দে ভরে গেছে। দুই পাশ ভেঙে সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। গতকাল মঙ্গলবার সত্যপীর সেতু থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ইটের খোয়া ও বালু ফেলে ভরাট করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের টিকিয়াপাড়া, পূর্ব গোয়ালপাড়া, নরেশ চৌহান সড়কের হলপাড়ার সংযোগ দুটি রাস্তা, ঘোষপাড়া-সরকারপাড়ার চারটি রাস্তা, হাজিপাড়ার বড় মাঠ থেকে শিমুলতলার রাস্তা, আশ্রমপাড়া শিশুপার্ক থেকে মুন্সিপাড়া, আশ্রমপাড়ার বঙ্গবন্ধু সড়কের সংযোগ রাস্তা, শান্তিনগরের সড়ক খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতে নর্দমার পানি সড়কে চলে আসে। মহল্লাবাসীকে সে সময় এ নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।

সেনুয়া বাজার এলাকার আবদুস সামাদ বলেন, এই সড়কে এখন রিকশা নিয়েও চলাচল করা যায় না। একদিক থেকে যানবাহন এলে বিপরীত দিকের যানবাহনকে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। রিকশাচালক মো. আল আমিন বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘদিন সড়কগুলো সংস্কার হচ্ছে না। এলাকাবাসী প্রায়ই তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। বিষয়টি নিয়ে বিড়ম্বনায় আছেন।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন বলেন, পৌরসভার ৮৫ কিলোমিটার পাকা সড়কের প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের গর্তগুলো আপাতত পৌরসভার উদ্যোগে পাথর-বিটুমিন দিয়ে ভরে দেওয়া হবে।

মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, শুধু সড়ক নয়, গোটা পৌরসভাকে তাঁরা ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। সে কাজ হলে পৌরবাসীর দুর্ভোগ থাকবে না।