‘বাবা, বাঘটা কি কামড় দেবে?’
সাদা বাঘের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট সুমাইয়া ইসলাম। বয়স মাত্র ছয় বছর। বড় বড় চোখ করে বাঘটির দিকে তাকিয়ে ছিল সে। হঠাৎ বাবার হাত চেপে ধরে প্রশ্ন করল, ‘বাবা, বাঘটা কি কামড় দেবে?’ মেয়ের প্রশ্ন শুনে হেসে ফেললেন বাবা মুশফিকুল ইসলাম। তিনি বললেন, ‘ভয় পেয়ো না। বাঘ খাঁচার ভেতরে আছে। কামড় দিতে পারবে না।’
বাবার কথা শুনে আবার বাঘটির দিকে তাকাল সুমাইয়া। কিছুক্ষণ পর বাঘটি খাঁচার ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে শুরু করলে আনন্দে লাফিয়ে উঠল সে। আজ শনিবার বিকেলে ঈদুল আজহার ছুটিতে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা গেল এমন দৃশ্য।
ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের পদচারণে সরগরম হয়ে উঠেছে চিড়িয়াখানা। তবে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে শিশুদের মধ্যে। এক খাঁচা থেকে আরেক খাঁচায় ছুটে বেড়াচ্ছে তারা। কখনো বাঘ দেখছে। কখনো সিংহ। কখনো আবার পাখিদের দেখে বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকছে।
চিড়িয়াখানার ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি। পাহাড়ঘেরা পরিবেশের মধ্যে গাছের ছায়া মাড়িয়ে মানুষ এগিয়ে যাচ্ছেন এক খাঁচা থেকে আরেক খাঁচার দিকে। শিশুদের হাত ধরে হাঁটছেন মা-বাবারা।
সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল বাঘের আবাসস্থলের সামনে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৭টি বাঘ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি সাদা বাঘ। প্রশস্ত ঘেরাটোপের ভেতর ধীর পায়ে হাঁটছিল বাঘগুলো। কখনো ছায়ায় বসে পড়ছিল। আবার কখনো এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
বাঘগুলোর সামান্য নড়াচড়াতেই শিশুদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ছিল। কেউ হাততালি দিচ্ছিল। কেউ মা–বাবার হাত ধরে আরও কাছে গিয়ে দেখার চেষ্টা করছিল। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছিলেন।
আগ্রাবাদ এলাকা থেকে ছেলেমেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন মুশফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মেয়ে অনেক দিন ধরে চিড়িয়াখানায় আসার কথা বলছিল। ঈদের ছুটিতে তাই নিয়ে এসেছি। ও প্রাণীগুলো দেখে খুব আনন্দ করছে।’
বাকলিয়া থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, ‘শিশুদের বিনোদনের জায়গা খুব বেশি নেই। চিড়িয়াখানায় এলে তারা প্রাণীগুলো কাছ থেকে দেখতে পারে। নতুন কিছু জানতে পারে।’
শুধু বাঘ নয়, সিংহের খাঁচার সামনেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। অনেক শিশু সিংহের গর্জনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। ক্যাঙারুর লাফিয়ে চলা দেখেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় তাদের। ভালুকের ধীর পায়ে হাঁটা আর খেলাধুলাও আগ্রহ নিয়ে দেখছিল দর্শনার্থীরা।
ময়ূরের খাঁচার সামনেও ছিল ভিড়। রঙিন পালক মেলে ধরলেই শুরু হচ্ছিল ছবি তোলা। পাখিদের অংশে গিয়ে অনেক শিশুকে বিভিন্ন পাখির নাম জানতে চাইতে দেখা গেছে।
চিড়িয়াখানার ভেতরের পথগুলোতেও ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। কোথাও পরিবার নিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কোথাও শিশুরা দৌড়ঝাঁপ করছে। আবার কেউ গাছের ছায়ায় বসে গল্প করছেন।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর মো. শাহাদাত হোসাইন জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার প্রায় ১১ হাজার দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন। আজ শনিবারও সকাল থেকেই ভালো ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ছিল বেশি।