আরাকান আর্মির কাছ থেকে জেলেদের মুক্ত করার চেষ্টা চলছে: বিজিবি

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিজিবি রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদছবি: বিজিবির সৌজন্যে

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী ও সাগরের উপকূল থেকে আরাকান আর্মি যেসব বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে, তাঁদের মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ করছে। চিঠিও পাঠিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবির রামু সেক্টর দপ্তরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন বিজিবি রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ।

গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, আরাকান আর্মির হাতে অপহরণ নয়, জলসীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ায় নাফ নদী ও সাগর মোহনা থেকে বাংলাদেশি জেলে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা পুরো সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ এখন মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে। আর দেশটির অভ্যন্তরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ ও সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে সক্রিয় উঠেছে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীও। এ কারণে সীমান্তে আরাকান আর্মির তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নাফ নদী ও সাগর মোহনায় জলসীমার শূন্যরেখা অতিক্রমকারী জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, নাফ নদী ও সাগরের যেসব এলাকায় ঘটনাগুলো হচ্ছে, সেটা বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা না হলেও বিষয়গুলো নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে সংকট নিরসনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশি জেলেরা ভুল করে মিয়ানমারের জল সীমায় ঢুকে পড়ছেন বলে জানান কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, নাফ নদীর মোহনাসংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে ভুল করে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়েন। এতে আরাকান আর্মির হাতে বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

এ নিয়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হচ্ছে বলে জানান বিজিবির এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত বাংলাদেশি ৫১ জন জেলে আরাকান আর্মির কাছে আটক রয়েছেন। সীমান্ত নন-ফ্যাক্টর গোষ্ঠী হলেও তাদের সঙ্গে বিজিবির আন-অফিশিয়াল যোগাযোগ রয়েছে। জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সংকট নিরসনের জন্য তাদের সঙ্গে আলাপ হচ্ছে। আমরা তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছি, যেন আর কোনো জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া না হয়। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে ধরে নেওয়া জেলে ও নৌযানগুলো ফেরত আনারও চেষ্টাও হচ্ছে। তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’