ডিবি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় কুমিল্লা নগরের পাথুরিয়াপাড়া থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মো. সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনায় গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে মামলার তদন্তের ভার দেওয়া হয় কোতোয়ালি মডেল থানার চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক কায়সার হামিদকে। গত ৩ ডিসেম্বর মামলা স্থানান্তর করে ডিবির পরিদর্শক মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত ১১ আসামির মধ্যে তিনজন পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। সাতজন গ্রেপ্তার আছেন। মামলার ১১ নম্বর আসামি নগরের সুজানগর বউ বাজার এলাকার কানাই মিয়ার ছেলে রনি (৩২) সম্প্রতি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। এদিকে দেড় মাস আগে এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান ডিবির পরিদর্শক শরীফ ইবনে আলম। ডিবির তদন্তে ছয়জনের নাম আসে। এর মধ্যে পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। একজন পলাতক আছেন।

হত্যা মামলার বাদী ও নিহত  সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বলেন, ‘এক বছরেও এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। আমরা এ ঘটনার পেছনের লোকদের নাম–পরিচয় জানতে চাই।’

নিহত সোহেলের একমাত্র ছেলে সৈয়দ মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাবার হত্যাকারীদের বিচার চাই। এক বছরে বিচার শুরু হয়নি।’ আর সোহেলের স্ত্রী রুনা বেগম বলেন, ‘এক বছরেও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। আমি দ্রুত বিচার চাই।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক শরীফ ইবনে আলম আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দেড় মাস আগে এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর এজাহারভুক্ত আসামি রনি আদালতে আত্মসমর্পন করেন। মামলার আসামিদের জবানবন্দি থেকে জানতে পারি, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়া ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাউন্সিলর সোহেলকে হত্যা করা হয়। এখন আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ আসল কি না, সেটার প্রতিবেদনের অপেক্ষা আছে। এরপর আমরা অভিযোগপত্র দেব।’