ট্রেনে ধর্ষণের অভিযোগ : জিআরপি পুলিশের ৪ সদস্যকে প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

ধর্ষণপ্রতীকী ছবি

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগিতে এক নারী যাত্রীর (৪৪) শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের অভিযোগে রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) এক কর্মকর্তাসহ চারজনকে প্রত্যাহার করে পাকশী পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রত্যাহার করা জিআরপি পুলিশের চার সদস্য হলেন টিএসআই খোকন ইসলাম, কনস্টেবল ফজলে রাব্বী, গোলাম মোস্তফা ও আশিকুল রহমান। আর ঈশ্বরদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দ্বীন-ই-আলমকে প্রধান করে গঠন করা কমিটির অন্য সদস্য হলেন জিআরপি পুলিশের পরিদর্শক হাফিজ উদ্দিন।

জিআরপি পাকশী অঞ্চলের পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, গত রোববার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠা এক নারীর করা ধর্ষণ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যানটিনবয় আবু বকর সিদ্দিককে (২২) পার্বতীপুর স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ওই নারী কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের চার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রত্যাহার করা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহার ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী গত রোববার রাত সোয়া আটটার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনটির সিরাজগঞ্জ স্টেশনে যাত্রাবিরতি নেই; ওই নারী যাত্রী আগে থেকে তা জানতেন না। ট্রেনটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই নারীকে নাটোর স্টেশনে নেমে যেতে বলেন। একপর্যায়ে জিআরপি পুলিশের সদস্যরা মাদক কারবারি সন্দেহে ওই নারীকে দেহ তল্লাশির কথা বলে খাবারের বগিতে নিয়ে যান। সেখানে জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করেন এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। ট্রেনটি দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া একটার দিকে নাটোর স্টেশন পৌঁছার আগেই খাবারের বগির বৈদ্যুতিক আলো ও দরজা বন্ধ করে দিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য তাঁর শ্লীলতাহানি করেন।

আরও পড়ুন

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, খাবারের বগির ক্যানটিনবয় আবু বকর সিদ্দিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুজন পুলিশ সদস্যের সামনে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী মুঠোফোনে তাঁর ছেলেকে ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি জানান। ওই নারীর ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিস্তারিত জানান। পরে রেলওয়ে পুলিশের একটি দল পার্বতীপুর স্টেশন থেকে আবু বকরকে আটক করে।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দিন বলেন, ওই ঘটনায় আসামি আবু বকর সিদ্দিককে গতকাল মঙ্গলবার বগুড়া আদালতে হাজির করা হয়। তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। যাতে দাবি করেছেন, ওই নারীর সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে।