থান কাপড় বিক্রি করে স্বাবলম্বী মিজানুর

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মৌলভীবাজার এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান। 

মিজানুর রহমান

এক যুগ আগের কথা। হঠাৎ জটিল রোগে বাবা মারা যান। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৫। মা গৃহিণী। সংসারে মা ছাড়াও ছিল আরও দুই বোন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বাবাকে হারিয়ে অথই সাগরে পড়েন। যে বয়সে বই হাতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা, সেই ধরতে হয় সংসারের হাল। গ্রামের পথে পথে, বাড়িতে ঘুরে ঘুরে সাইকেলে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করেন। মানুষের কাছে হাত না পেতে স্বাবলম্বী হয়েছেন এক তরুণ। নিজে বিয়ে না করলেও দুই বোনকে বিয়ে দিয়েছেন। 

পরিবারের জন্য নিজের জীবনের সুখ–স্বাচ্ছন্দ্যকে বিসর্জন দেওয়া এই তরুণের নাম মিজানুর রহমান (২৭)। তাঁর বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকায়। নিজেদের সামান্য বসতভিটা রয়েছে। সেখানে দুটি টিনের ঘরে বসবাস করেন। 

কয়েকদিন আগে জীবনযুদ্ধ জয়ী এই তরুণের সঙ্গে দেখা হয় গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব অভিরাম এলাকায়। রাস্তার পাশে একটি চায়ের দোকানে তাঁর সঙ্গে কথা হলো। তিনি জানালেন তাঁর পরিবারের সুখ–দুঃখের কথা। বললেন, একসময় সংসারে অভাব আর কষ্টের কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি। দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তাঁর বাবা রিকশা চালিয়ে সংসারের খরচ জোগাতেন। জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১০ সালে মারা যান বাবা নূর ইসলাম। মা মিনারা বেগম অসহায় হয়ে পড়েন। তাঁরা তিন ভাই–বোন। বাবা মারা যাওয়ার পর ১৫ বছর বয়সে সংসারের হাল ধরেন। দিনমজুরির কাজসহ নির্মাণশ্রমিকের কাজও করেছেন। কিন্তু এই কাজে অনেক পরিশ্রম। তাই ভাবলেন, সামান্য টাকায় একটি পুরোনো সাইকেল কিনে থান কাপড় ফেরি করে বিক্রি করবেন। অবশেষে তাই শুরু করলেন। 

দিনমজুরির কাজ করতে গিয়ে কিছু টাকাও জমা করেন। সেই জমানো ২০ হাজার টাকা দিয়ে মহিলাদের থান কাপড়ের পাশাপাশি ওড়না ও মশারি সাইকেলে বেঁধে গ্রামের পথে পথে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। এতে গ্রামের নারীরা কাপড় কিনতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নারীদের বিভিন্ন রঙের পছন্দের কাপড় কিনে আনেন শহরের পাইকারি দোকান থেকে। ব্যবসার পরিধি বেড়ে যায় এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। বাকিতেও কাপড় কেনেন। সেই সঙ্গে গ্রামের নারীদেরও বাকিতে কাপড় বিক্রি করতে থাকেন। টাকা পরিশোধ করে আবার নতুন কাপড় নিয়ে থাকেন তাঁরা।