স্বরাষ্ট্রে সালাহউদ্দিন, স্বাধীনতার পর কক্সবাজার থেকে প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী

সালাহউদ্দিন আহমদছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ৫৫ বছরে কক্সবাজার জেলা থেকে তিনিই প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী হলেন। তাঁর মন্ত্রী হওয়ার খবরে কক্সবাজারের বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আনন্দমিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। স্বাধীনতার পর কক্সবাজার থেকে প্রথম পূর্ণ মন্ত্রীই শুধু নয়, প্রথম প্রতিমন্ত্রীও সালাহউদ্দিন।

সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৬৩ সালের ৩০ জুন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সিকদারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে পেকুয়ার শিলখালী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ১৯৮৪ সালে এলএলবি ও ১৯৮৬ সালে এলএলএম পাস করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন সালাহউদ্দিন।

১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন তিনি। ১৯৯১ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব নিযুক্ত হন। সরকারি চাকরি ছেড়ে ১৯৯৫ সালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন সালাহউদ্দিন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া তাঁকে। আইনি জটিলতায় ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে এ আসন থেকে তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদ ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় সালাহউদ্দিন আহমদকে। এরপর ওই বছরের ১১ মে তাঁকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের গলফ মাঠে পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি দীর্ঘ ৯ বছর পর ১১ আগস্ট দেশে ফিরে আসেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পেকুয়া উপজেলায় আনন্দমিছিল করে ছাত্রদল। মিছিলটি পেকুয়া চৌমুহনী মোড় থেকে শুরু হয়ে পেকুয়া বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পরে ছাত্রদলের নেতারা বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে মিষ্টিমুখ করান। এ ছাড়া চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরেও সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মিষ্টিমুখ করান দলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় চকরিয়ার সাবেক ছাত্রদল নেতা ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে কক্সবাজারবাসী প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী পেয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। দেশের ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে সালাহউদ্দিন আহমদের মতো দক্ষ মানুষ দরকার।’

কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৯০ জন। পোস্টাল ব্যালটসহ ১৭৭টি কেন্দ্রে সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ১৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুখ পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৭২৮ ভোট। ৯২ হাজার ২৯১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন সালাহউদ্দিন।

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে কক্সবাজার থেকে দুজন মন্ত্রী হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তাঁরা হলেন খান বাহাদুর মৌলভি জালালুদ্দীন আহমদ ও মৌলভি ফরিদ আহমদ। দুজনেই পেশায় আইনজীবী ছিলেন। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায় জন্মগ্রহণ করা খান বাহাদুর মৌলভি জালালুদ্দীন আহমদ ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য ছিলেন এবং তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। পরে কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগরের সন্তান মৌলভি ফরিদ আহমদ ১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী হন। তিনি ১৯৭১ সালের ২৩ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।