রাউজানে মোটরসাইকেলে এসে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা
চট্টগ্রামের রাউজানে মোটরসাইকেলে করে এসে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট এলাকার সিকদার পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত।
নিহত যুবদল নেতার নাম মুহাম্মদ জানে আলম সিকদার (৪৮)। তিনি রাউজান উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাড়ি ওই ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামে। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গিয়াস কাদের চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীর একজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মুখোশ পরা তিন যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে জানে আলমের বাড়ির সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর তাঁরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে জানে আলম পাশের অলিমিয়াহাট বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্বৃত্তদের পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা জানে আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়, সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুলিবিদ্ধ যুবদল নেতার হাসপাতালে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, জানে আলম ও তিনি একই এলাকার বাসিন্দা। মোটরসাইকেল আরোহীরা এসে জানে আলমকে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যান। তাঁর বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। কী কারণে তাঁকে গুলি করা হয়েছে, সে বিষয়ে ফিরোজ আহমদ নিশ্চিত নন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দিপ্তেষ দাশ প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১২টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ১০ জন এবং কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৫ জন খুন হন। বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয় শতাধিকবার। ৩৫০ জনের বেশি মানুষ এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন।