মাদারীপুরে আবারও টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষ অন্তত শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। গতকাল রোববার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত এক মাসে নতুন মাদারীপুর এলাকায় কয়েকবার টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুটি পক্ষ। প্রতিবার হামলার সময় উভয় পক্ষই নিজেদের দাপট দেখাতে হাতবোমা নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
গতকাল সংঘর্ষের সময়ের হাতবোমা বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, খোলা মাঠে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষ বোমা নিক্ষেপ করছে, চারপাশে ধোঁয়া আর দেশীয় অস্ত্রের মহড়া চলছে। যাঁরা সংঘর্ষে লিপ্ত, তাঁদের মুখমণ্ডল গামছা দিয়ে ঢাকা দেখা যায়। একটি ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা করছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকার আক্তার হাওলাদার ও হাসান মুন্সির মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বিরোধ চলছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকাছাড়া আক্তার ও তাঁর অনুসারীরা। সম্প্রতি তাঁরা এলাকায় প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে পুনরায় বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এই দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়াতে তাঁরা বাধ্য হন। এরই জেরে গতকাল রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষ শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সংঘর্ষে আহত হন অন্তত চারজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব পুরোনো। তারা বারবার রাতে একত্র হয়ে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। এর আগে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। তবু তাদের থামানো যাচ্ছে না। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল রাতে দুই পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ আটটি শেল নিক্ষেপ করে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।