আলীকদমে ম্রোদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, আহত ১০

হামলায় আহত প্রেক্য ম্রো নামের এক গ্রামবাসীছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের আলীকদমে জানালীপাড়ার গ্রামবাসী ম্রো সম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ও বিকেলে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন।

সেনাবাহিনীর আলীকদম জোন থেকে একটি দল আজ রোববার জানালীপাড়ায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ বিষয়ে আজ সকালে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর শাহের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হচ্ছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

হামলার শিকার পাড়াবাসী জানিয়েছেন, শনিবার সকালে বাগানে কলার ছড়া ও গাছ চুরি করার সময় জাফর নামের একজনকে গ্রামবাসী হাতেনাতে ধরে ফেলেন। থানায় সংবাদ দেওয়ার জন্য তাঁকে জানালীপাড়ায় আটকে রাখা হয়। কিন্তু পুলিশকে খবর দেওয়ার আগে জাফরের দলের ১২ থেকে ১৪ সন্ত্রাসী দা, চায়নিজ কুড়াল, লাঠিসোঁটা নিয়ে পাড়াবাসীদের ওপর হামলা চালান। ম্রোদের মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁরা জাফরকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। হামলায় আহতদের মধ্যে ডাংয়া ম্রো (৫২) ও প্রেক্য ম্রো (২৬) মাথায় ও পিঠে গুরুতর আঘাত পান।

জানালীপাড়া এলাকার সেথং ম্রো জানিয়েছেন, আলীকদম-পোয়ামুহুরী সড়কে উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে জানালীপাড়ার অবস্থান। হামলার ঘটনায় পাড়াবাসী থানায় অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা আবার হামলা চালায়। এ সময় আরও দুজন আহত হন। সেখানে অমর ত্রিপুরা নামে একজনের অবস্থা গুরুতর।

আলীকদমে হামলায় আহত অমর ত্রিপুরা নামের এক গ্রামবাসীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়
ছবি: সংগৃহীত

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ হাসান জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ডাংয়া ম্রো, প্রেক্য ম্রো ও অমর ত্রিপুরাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই বাড়িতে চলে গেছেন।

আলীকদমের নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন জানিয়েছেন, জাফর এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত। ছেলে ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে তিনি একটি দল গড়ে তুলেছেন। জানালীপাড়ায় চুরি করার সময় ধরা পড়লে তাঁর দলের সদস্যরা হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছেন। জাফর ম্রোদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালেও কয়েক দিনের মধ্যে আবার জামিনে বের হয়ে আসেন। তাঁকে নিয়ে এলাকায় সবাই অতিষ্ঠ।

আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর শাহ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুদিন কারাগারে থাকার পর ফিরে এসে শনিবার আবার জানালীপাড়ায় চুরি ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। চুরি ও হামলার ঘটনায় মামলা হচ্ছে। জাফর ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।