আইজিপি পরিচয়ে ওসিকে কল, ভুয়া পরিচয় শনাক্তের পর যুবকের কারাদণ্ড

পরিচয় লুকিয়ে ওসিকে কল করে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জহিরুল ইসলামকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায়ছবি: প্রথম আলো

নিজেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পরিচয় দিয়ে থানার ওসিকে কল করেন এক ব্যক্তি। মামলার আসামি কেন ধরা হচ্ছে না, এমন নানা প্রশ্ন তুলে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে কল কেটে দিলে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গতকাল রোববার রাতে এমন ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবের ইউনিয়নের পূর্ব বহুলী গ্রামের বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম (৩২)। তিনি আগে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করলেও বর্তমানে কিছু করেন না।

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, কলারের কথাবার্তায় তাঁর সন্দেহ হয়। কারণ, প্রয়োজন হলে আইজিপি সরাসরি থানার ওসিকে নয়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রযুক্তির সহায়তায় কলারের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে জহিরুল ইসলামকে আটক করা হয়।

অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের বরাতে ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, জহিরুল ইসলাম একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। প্রায় দুই বছর আগে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করলে তাঁকে এলাকাবাসী ধরে মারধর করে পুলিশের হাতে দিয়েছিল। এর পর থেকে তিনি কিছু সময় এলোমেলো আচরণ করেন, কিছু সময় স্বাভাবিক আচরণ করেন।

গ্রেপ্তারের পর ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোশারফ হোসাইন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত জহিরুল ইসলামকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও নিজেকে আইজিপি পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করায় প্রচলিত আইনে তাঁকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের বরাতে ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, জহিরুল ইসলাম একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। প্রায় দুই বছর আগে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করলে তাঁকে এলাকাবাসী ধরে মারধর করে পুলিশের হাতে দিয়েছিল। এর পর থেকে তিনি কিছু সময় এলোমেলো আচরণ করেন, কিছু সময় স্বাভাবিক আচরণ করেন।