‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’—মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর থেকে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড় জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জমিসহ ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনটি পর্যায়ে জেলার ৫টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৮৫০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার দুই শতাংশ জমির মালিকানাসহ টিনশেড পাকা ঘর পেলেন। প্রতিটি ঘরে বারান্দা, রান্নাঘর ও শৌচাগার যুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া পরিবারগুলোর সুপেয় পানির জন্য বসানো হয়েছে নলকূপ এবং দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ–সংযোগ। সেই সঙ্গে উপকারভোগীদের নামে জমির কবুলিয়ত ও নামজারি সম্পন্ন হয়েছে।

default-image

তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে আজ ১ হাজার ৪১৩টি পরিবারের মধ্যে জমিসহ ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি পঞ্চগড় জেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন। এতে দেশের প্রথম ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা হলো দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

এ উপলক্ষে মাহানপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র জাকিয়া খাতুনসহ জেলা ও  উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপকারভোগী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে জেলার ৫টি উপজেলায় ১ হাজার ৫৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ হাজার ৩৫৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ জমিসহ ঘর দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে জেলার ৫টি উপজেলার ১৭৬টি স্থানে মোট ২ হাজার ৪৩৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহার হিসেবে জেলার ১ হাজার ২১টি পরিবারের মধে৵ জমিসহ ঘর প্রদান করেন। সর্বশেষ আজ তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চু৵য়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ১ হাজার ৪১৩টি পরিবারের মধে৵ জমিসহ ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং পঞ্চগড় জেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা ঘোষণা করেন।

জেলার ৫টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার নির্বাচনে জেলার প্রতিটি গ্রাম ও হাটবাজারে মাইকিং করে আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া জেলার প্রতিটি মসজিদ, বিভিন্ন উপাসনালয়, জনসমাগমপূর্ণ স্থান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের কাছে আবেদন আহ্বান করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলায় মোট ৪ হাজার ৮৫০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার খুঁজে পাওয়া যায়। এসব পরিবারের মোট ১৫ হাজার ১৫৯ জন আশ্রয়হীন মানুষ স্থায়ীভাবে আশ্রয় পেলেন। ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে জেলার ৭৪ দশমিক ২১ একর খাসজমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন।

মাহানপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে জমিসহ ঘর পাওয়া আমেনা বেগম (৬৫) বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে স্বামী মারা গেছেন। স্বামী ভূমিহীন ছিলেন। অন্যের জমিতে ঝুপড়ি তুলে এত দিন ছিলাম। স্বামীর মৃত্যুর পর তিন মেয়েকে অনেক কষ্টে বিয়ে দিয়েছি। এবার পাকা ঘর পেয়েছি। ঘরের সঙ্গে দুই শতাংশ জমিও আমার নামে দিয়েছে সরকার। এখানে ছোট্ট একটি নাতনিকে নিয়ে থাকছি। শেখ হাসিনা মাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি তাঁর জন্য সারা জীবন দোয়া করব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন