গতকাল বৃহস্পতিবার মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে ফরিদের সঙ্গে দেখা হয়। রিকশা থেকে যাত্রী নামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। রিকশা চালানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদ বলেন, ‘আমাদের কোনো চাষের জমি নেই। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল একখানা রিকশা। আমি নিজেও প্রতিবন্ধী। লেখাপড়া তেমন হয়নি। হাতের সাহায্য নিয়ে কোনোরকমে চলাফেরা করি। বাবা অসুস্থ হয়ে পরায় আমাকে বাধ্য হয়ে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে।’

আগে ফরিদ লঞ্চে ভিক্ষা করতেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা আর বাবার উপার্জনে ফরিদের পরিবার কোনোরকমে চলত। তবে বাবার অসুস্থতার কারণে ভিক্ষা ছেড়ে রিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ফরিদ বলেন, ‘দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। কখনো কখনো আরও কম। এটা দিয়ে চাল, ডাল, তেল কিনতেই শেষ হয়ে যায়। তখন বাবার ওষুধ কেনা কষ্টকর হয়ে যায়। সপ্তাহে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার ওষুধ কিনতে হয় বাবার জন্য।’

default-image

দুই পা অচল বলে রিকশা চালাতে মাঝেমধ্যেই ফরিদকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। পথে রিকশার ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে কিংবা ভাঙা সড়কে পড়লে পথচারীর সাহায্য নিতে হয় তাঁকে। বৃষ্টির দিনে রাস্তায় কাদা জমে গেলে আর রিকশা নিয়ে বের হতেই পারেন না তিনি।

ফরিদ বলেন, রিকশা চালানো তাঁর জন্য খুব কষ্টকর। তাই এর পরিবর্তে অন্য কোনো পেশা হলে ভালো হতো। কিন্তু টাকা–পয়সা নেই। পুঁজি থাকলে একটি দোকান নিয়ে বসতে চান তিনি।

ফরিদের প্রতিবেশী হানিফ আঁকন বলেন, ফরিদকে আগে লঞ্চে ভিক্ষা করতে দেখা যেত। কিন্তু এখন রিকশা চালিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। এই পেশা তাঁর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবারের অভাবের কারণেই তাঁকে এই কাজ করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল বাশার নাসির বলেন, ফরিদ আঁকন প্রতিবন্ধী। তাঁকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন