বৃষ্টি কম হচ্ছে, অন্যদিকে তাপমাত্রাও বেশি থাকছে। ১৪ জুলাই রাজশাহীর তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শনিবার ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতকাল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে উত্তরাঞ্চলকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নিয়ে রাজশাহী অঞ্চল; বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলা নিয়ে বগুড়া অঞ্চল; রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা নিয়ে রংপুর অঞ্চল এবং দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা নিয়ে দিনাজপুর অঞ্চল। প্রতিটি অঞ্চলের দায়িত্বে একজন করে অতিরিক্ত পরিচালক রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনাবৃষ্টি ও অতিরিক্ত খরার কারণে চারটি অঞ্চলে কমবেশি একই ধরনের প্রভাব পড়েছে। সবাই বলছেন, বৃষ্টি না হলে সমস্যা হবে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোজদার হোসেন বলেন, রোববার জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় তিনি খরা ও অনাবৃষ্টির মোকাবিলার বিষয়টি আলোচনায় তুলেছিলেন। সভায় বিএমডিএকে তাদের গভীর নলকূপগুলো সব সময় চালু রাখতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, তারপরও বৃষ্টি না হলে সমস্যা আছে।

বিএমডিএ সব সেচযন্ত্র চালু করলেও ৫০ থেকে ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে পারবে। কিন্তু আউশ-আমন মিলে ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে হবে। এটা মূলত বৃষ্টির পানিতেই করা হয়। প্রয়োজনে সম্পূরক সেচ দেওয়া হয়। বৃষ্টি না থাকার কারণে পাট জাগ দেওয়ার পানি নেই।

গতকাল রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শালঘরিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক মেরাজ মোল্লা তাঁর আউশের জমিতে কাজ করছেন। জমির ধানের রং সবুজ থাকলেও মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। তিনি বলছেন, পানি দিতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে এ ধান নিয়ে বিপদে পড়ে যাবেন।

একই উপজেলার নামোদুরখালী গ্রামের কৃষক সোলেমান আলী বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধান লাগাতে পারেননি। বৃষ্টির আশায় তিনি জমির আইল ঠিক করছেন।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের কৃষক লিটন শাহ বলেন, গত বছর আউশের জমিতে সেচ খরচ ছিল ৬০০ টাকা। এবার ২০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তারপরও জমিতে পানি দিতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, খরায় এলাকার জমির পাটগাছ পুড়ে যাচ্ছে। তাঁদের শিব নদীতে এক হাঁটুর চেয়ে কম পানি। এলাকার চাষিরা পাট ডোবানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু বৃষ্টি না হলে সেই পানিতে পাট পচবে না।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ১১৭ হেক্টর জমিতে ভুট্টা রয়েছে। বেশির ভাগই চরের জমিতে। বালু চটকা জমির কারণেই পানি না পেয়ে ভুট্টা ও পাটগাছ মারা গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এমদাদ হোসেন শেখ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয় চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব রংপুর অঞ্চলেও পড়ছে। বৃষ্টি না হলে পাট নিয়ে কৃষককে ভুগতে হবে। আমন রোপণ বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যান্য ফসল নিয়েও ভুগতে হবে।

বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ইউসুফ রানা মণ্ডল বলেন, আষাঢ়ে তেমন বৃষ্টি হয়নি। এখন উপযুক্ত সময় হলেও আমন রোপণ পিছিয়ে যাচ্ছে। পাট জাগ দেওয়ার জন্য খাল–বিলে কিছু পানি থাকলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়। বৃষ্টি না হলে সমস্যা বাড়বে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন