নরসিংদীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, আরও একজন গ্রেপ্তার
নরসিংদীতে পিকনিক শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসী হামলায় ১২ সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় আহত এক সাংবাদিক মাধবদী থানায় মামলা করেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এ ঘটনায় জড়িত আরেকজনকে আজ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ফ্যামিলি ডে আয়োজন শেষে সন্ধ্যায় বাসে ঢাকায় ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে বাসটি রাস্তার পাশে কিছুক্ষণ দাঁড় করানো হলে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী চাঁদা দাবি করে। এতে সাংবাদিকেরা প্রতিবাদ জানালে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন সদর উপজেলার মাধবদী থানার কবিরাজপুরের আলাল সরকার (২৬), রনি মিয়া (২৫) ও রিফাত মিয়া (২২)। রিফাতকে আজ সন্ধ্যায় এবং আলাল ও রনিকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন মো. হারুন মিয়া (৫২), মোহাম্মদ আলী (২৪), রিয়াসাদ আলী (২০), মো. শাকিব (২২), মো. রোমান মিয়া (২৮) ও মো. মামুন (৩০)।
মামলার বাদী এস এম ফয়েজ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার সকালে ক্র্যাব সদস্যরা ‘ফ্যামিলি ডে’ উদ্যাপনের জন্য পরিবার নিয়ে ১২টি বাসে করে নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে আসেন। পার্কের বিপরীতে হারুন নামের একজনের মালিকানাধীন ‘আলী গাড়ি পার্কিং’–এ বাসগুলো রাখা হয়। সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠান শেষে পর্যায়ক্রমে সবাই নির্দিষ্ট বাসে উঠতে পার্কিংয়ে যান। ১২টি বাসের মধ্যে ৮টি বাসই ২০০ টাকা পার্কিং ফি দিয়ে চলে যায়। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় বাকি চারটি বাস ছাড়ার সময় পার্কিংয়ের মালিক হারুন মিয়া এসে চালকদের কাছে বাসপ্রতি ৬০০ টাকা করে পার্কিং চার্জ দাবি করেন। বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে নয়া দিগন্ত পত্রিকার সাংবাদিক মনির হোসেন পার্কিং চার্জ আদায়ের রসিদ চাইলে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় মামলার বাদীসহ অন্য সাংবাদিকেরা এগিয়ে এলে ধারালো দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন হারুনের লোকজন। ধারালো অস্ত্র ও লাঠির আঘাত ও মারধরে গুরুতর আহত হন সাংবাদিক এস এম ফয়েজ, শহিদুল ইসলাম, মহসিন কবির, সাখায়াত কাউছার, সোহেল নয়ন ও ক্র্যাব স্টাফ লাল মিয়া। সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক মহসিন কবিরের সঙ্গে থাকা নগদ চার হাজার টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে আসামিরা লাঠি দিয়ে বাসের সাইডগ্লাস ভেঙে চাবি কেড়ে নেয়।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, আজ দুপুরে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার দুজনকে (এজাহারভুক্ত) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল বুধবার তাঁদের রিমান্ড শুনানির কথা রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িত আরও একজনকে আজ সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে।