অটোরিকশায় ঘুরে সুস্থ রাজনীতির বার্তা দিয়ে ভোট চাইছেন হাসনাত কাইয়ূম

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় প্রচারণা চালাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ূম। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার বাঁশমহল এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

গতকাল বুধবার বেলা সোয়া দুইটা। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের বাঁশমহল এলাকায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করছিলেন কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ূম। স্থানীয় লোকজনের কাছে ভোট প্রার্থনা করে বলছিলেন, তাঁকে ভোট দিলে তিনি ‘অসুস্থ’ দেশটাকে ‘সুস্থ’ করে তুলবেন। বাজিতপুর ও নিকলী হাওরের প্রাণপ্রকৃতি ফিরিয়ে আনবেন। এভাবে সুস্থ রাজনীতির বার্তা দিয়ে ভোট চাইছিলেন তিনি।

হাসনাত কাইয়ূম হরিণ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি। গতকাল বাঁশমহলের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে প্রচারণা চালিয়ে উপজেলার হিলোচিয়া ইউনিয়নে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেন হাসনাত কাইয়ূম। পরে ওই ইউনিয়নে একটি পথসভাও করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসনাত কাইয়ূমের কোনো নির্বাচনী কার্যালয় নেই। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তিনি দুই উপজেলার অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারে উঠান বৈঠককে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বড় সভা আয়োজনেও তাঁর অনীহা। হাসনাত কাইয়ূমের মতে, বড় সভায় জনগণের কাছাকাছি যাওয়া যায় না। নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও এলাকার উন্নয়নের বিষয়গুলো কাছ থেকে তুলে ধরা যায় না। ব্যয়ও বেড়ে যায়। এ জন্য উঠান বৈঠকই তাঁর পছন্দ।

হাসনাত কাইয়ূমের গ্রামের বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের শোভরামপুর গ্রামে। গতকাল সকালে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বাড়িতে আধা পাকা পুরোনো দুটি ঘর। বৃক্ষের ছায়া ভেদ করে উঠানে রোদ খুব বেশি উঁকি দিতে পারে না। বাড়ির সামনের ঘরটিতে বসে তিনি নির্বাচনী কাজ সারছেন। দলে দলে লোক আসছেন। নিজের ঘরে বসেই সবার সঙ্গে কথা বলছেন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে স্পষ্টভাষী, সাহসী ও নীতির প্রশ্নে আপসহীন, কিন্তু বিনয়ী হিসেবে জানেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জোটবদ্ধ হয়ে একদল নারী আসেন কাইয়ূমের সঙ্গে দেখা করতে। বাড়ির উঠানে বসে তাঁদের সঙ্গে অনির্ধারিত উঠান বৈঠক সারেন। সেখানে তাঁর কাছে নারীদের অনেক জিজ্ঞাসা ছিল। তিনি তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে তাঁদের কাছে নিজের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কথাও বলেন। বাংলাদেশ নির্মাণ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারে নারীদের ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে উল্লেখ করে সব ক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

হাসনাত কাইয়ূমের নির্বাচন পরিচালনায় একটি দল কাজ করছে। দলের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেল, তিন ধাপে তিনি প্রচারণার কাজটি এগিয়ে নিচ্ছেন। প্রথম ধাপে তিনি নিজের পরিচয় ও রাষ্ট্র সংস্কার কী, কেন প্রয়োজন—এ বিষয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপটি সেরেছেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায়। এখন আছেন তৃতীয় ধাপে। এখন উঠান বৈঠক, পথসভা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ প্রাধান্য পাচ্ছে।

ভোটাররা নানা কারণে হাসনাত কাইয়ূমকে বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী মনে করছেন। তিনি ও তাঁর সংগঠন ১২ বছর ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের ধারণাকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছেন। তিনি তাঁর কৃতিত্ব নিয়ে কখনো উচ্চবাচ্য করেন না এবং ফায়দা তোলার চেষ্টা করেন না—এমন উপলব্ধি রয়েছে ভোটারদের মধ্যে।

হাসনাত কাইয়ূম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবারের ভোট চব্বিশের অর্জন। একাত্তর আমার পরিচয়। চব্বিশ আমার অর্জন। স্বাধীনতাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে চব্বিশ হয়।’ প্রতিদ্বন্দ্বী অনেক প্রার্থী আচরণবিধি ভঙ্গ করলেও তিনি এ পথে হাঁটতে চান না, এমনটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে হাসনাত কাইয়ূম ছাড়া বিএনপির সৈয়দ এহসানুল হুদা (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ শেখ মজিবুর রহমান (হাঁস), জামায়াতে ইসলামীর মো. রমজান আলী (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. দেলাওয়ার হোসাইন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. মাহবুবুল আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. সাজ্জাদ হোসেন (হারিকেন) ও বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের মো. অলিউল্লাহ (মোমবাতি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।