চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড
‘কোনো অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে ফেলতে পারবে না’
মহান মুক্তিযুদ্ধ জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন, সবচেয়ে বড় ঘটনা। কোনো অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে পারবে না। সীমাহীন আত্মত্যাগের বিনিময়ে এ ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’–এ কথাগুলো বলেন বক্তারা।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির ১২০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২০ মিনিটের এ প্রতিযোগিতা শেষে আলোচনা সভা হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পাঁচজনকে প্রথমা প্রকাশনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই উপহার দেওয়া হয়। বিজয়ীরা হলো নবম শ্রেণির আতিকুর জামান, আহনাফ শাহরিয়ার ও আরাফ মোর্শেদ এবং অষ্টম শ্রেণির মাহমুদুল হাসান ও উমায়ের উসাইদ।
প্রথম আলো বন্ধুসভা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এ আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বন্ধুসভার সভাপতি মাশরফা খাতুন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবিনা আনিস বলেন, ইতিহাসের সত্যকে ভুলে যাওয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এমনই এক সত্য, যা জানতেই হবে। সঠিক বই বেছে নিয়ে পড়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হয়তো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, কিন্তু একদিন তোমাদের হাত ধরেই এসব চেতনার বাস্তবায়ন হবে—এই বিশ্বাস আমাদের আছে।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফল হক বলেন, ‘২৫ মার্চের কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে আর স্থির থাকতে পারিনি। প্রতিশোধ নিতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিই। যুদ্ধে মারা যেতে পারি, এই ভয় কখনো আমাকে আক্রান্ত করেনি।’
এ ছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটস চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সহকারী কমিশনার আশরাফুল আম্বিয়া, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সৈয়দ মফিজুল ইসলাম ও মাহবুব জন, বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর, শিক্ষার্থী সাফি শাহরিয়ার ভাষা এবং বন্ধুসভার দপ্তর সম্পাদক ফাহিম আসেফ উৎস বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সহসভাপতি ফারাহ উলফাৎ অর্পিতা।