১২ ফুট কালভার্টের ৮ ফুট জুড়ে গর্ত, যান চলাচলে ভোগান্তি
৪ ফুট দৈর্ঘ্যের ছোট একটি কালভার্ট, প্রস্থে ১২ ফুট। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী সেতু ও রাজাখালী সড়কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে কালভার্টটি। তবে কালভার্টের মাঝামাঝি আট ফুট অংশজুড়ে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত। কংক্রিট ঝরে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। রাজাখালী ইউনিয়নের হাজারো মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের সড়ক এটি। বিকল্প সড়কটিও সংস্কারকাজের জন্য গত আট মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। কালভার্টে গর্তের কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
স্থানীয় লোকজন জানান, রাজাখালী সড়কের জালিয়াকাটা সাইক্লোন শেল্টারের সামনে অন্তত ২০ বছর আগে কালভার্টটি নির্মিত হয়। গত মার্চে কালভার্টটি ধসে পড়ে। তখন কোনোরকমে বালু, সিমেন্ট, রড দিয়ে কালভার্টটি জোড়াতালি দেয় স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দুই মাস না যেতেই সেসব বালু ও সিমেন্ট ঝরে পড়েছে।
রাজাখালী এয়ার আলী খান আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ছোটন কান্তি সুশীল বলেন, কালভার্ট মেরামতের মতো ছোট একটি কাজের জন্য মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ সড়কে নিয়মিত চলাচল করেন রাজাখালীর বাসিন্দা ও কুতুবদিয়া উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ সড়ক দিয়ে বড় ট্রাকে রাজাখালীতে উৎপাদিত লবণ পরিবহন করা হয়। কালভার্টটি মেরামত করলে মজবুত করে করতে হবে। নইলে আবার ধসে পড়বে। অনেক চালক গর্তের কথা জানেন না। কালভার্ট পর্যন্ত এসে তাঁদের আবার পাঁচ-ছয় কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। মেরামতের আগপর্যন্ত অন্তত একটি নির্দেশনা দেওয়া উচিত।
গতকাল বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, গর্ত হওয়া কালভার্টটি দিয়ে ছোট যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গর্তের সামনে থেকে ঘুরে যাচ্ছে অনেক যানবাহন।
চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘গর্ত হওয়া কালভার্টটি আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দিয়েছি। শিগগিরই মেরামত কাজ শুরু হবে।’
এ বিষয়ে কথা হয় পেকুয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী শাহজালালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কালভার্ট মেরামতের বিষয়ে আমরা উপজেলা পরিষদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কাছ থেকে ফান্ড নিয়ে দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করা হবে।’