বাগেরহাটে মাজার দিঘির কুমির ফেরত দেওয়ার দাবি

বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.) মাজার দিঘির কুমির আবারও ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। রোববার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনেছবি : প্রথম আলো

বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ)-এর মাজার-সংলগ্ন দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমিরটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে এ দাবিতে ‘বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনসাধারণ’ ব্যানারে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মাজারের প্রধান খাদেম ও বিএনপি নেতা ফকির তরিকুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পরিবার যুগ যুগ ধরে মাজার ও দিঘির দেখভাল করে আসছে। কিন্তু আমাদের সাথে কথা না বলে, পুলিশ নিয়ে এসে এখান থেকে কুমিরটি নিয়ে যায়। কুমির এখানে বাগেরহাটের ইতিহাস, ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। এর আগেও চিকিৎসার জন্য মাজারের দিঘির দুটি কুমির নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার আর ফেরত দেওয়া হয়নি। আমাদের চাওয়া যেকোনো মূল্যে এখানে দিঘিতে কুমির ফেরত দিতে হবে।’ এর জন্য প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তরিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে মাজারের খাদেম, পরিচালনা কমিটির সদস্য, ব্যবসায়ীসহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে হজরত খানজাহান আলী (রহ.) দিঘিটি খনন করেন বলে কথিত আছে। বলা হয়ে থাকে, সুপেয় পানির জন্য খনন করা দিঘিতে খানজাহান (রহ.) পানির সুরক্ষায় এখানে দুটি কুমির ছাড়েন, যা তিনি পালতেন। ওই কুমিরের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর আগেই ২০০৪ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোক্রোডাইল ব্যাংক থেকে আনা ছয়টি কুমির এ দিঘিতে ছাড়া হয়। কিন্তু এর দুটি মারা যায় এবং দুটি আহত হয়। সর্বশেষ দুটি কুমিরের একটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এরপর দিঘিতে একমাত্র নারী কুমির ছিল। সম্প্রতি ওই কুমিরের কামড়ে একটি কুকুর ও এক শিশুর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে আলোচনায় আসে মাজারের নিরাপত্তা ও মানুষের সুরক্ষার বিষয়টি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার স্বার্থে কুমিরটি সরিয়ে নেয় প্রশাসন। কুমিরটি বর্তমানে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছে।

আরও পড়ুন