বাসের চালক রাজা মিয়া বলেন, ‘আমরা তো ধর্মঘট ডাকি নাই। রংপুরে অযৌক্তিক ধর্মঘট ডাকছে। গতকালকে ১৩ শ টাকার তেল বাকিতে কিনেছি। দিনাজপুর-রংপুর যাতায়াতে অন্য সময় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ভাড়া পাই। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে ৪ হাজার টাকাও হয় না। দিন শেষে ১০০ টাকাও পকেটে থাকে না। এগুলা দেখবে কে?’

রাজা মিয়া আরও বলেন, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তিনি বাস নিয়ে রংপুর বাস টার্মিনালে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। ওই সময় রংপুর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন বাস ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। ধর্মঘটের সময় রংপুরে যেন বাস না ঢোকে—এ বিষয়ে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে সৈয়দপুরের রাবেয়া মোড় পর্যন্ত বাস চালাচ্ছেন তিনি।

এইচএ পরিবহনের সুপারভাইজার সুলতান আহমেদ বলেন, রংপুর শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনের পাশাপাশি পুলিশও রংপুরে বাস নিয়ে যেতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এমনকি বাসের হর্নও খুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে নির্দিষ্ট রুট পর্যন্ত বাস না চলায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। অন্যদিকে আয় কমে যাওয়ায় বাসের চালক ও সহকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

মিথিলা পরিবহনের চালক বাবুল হোসেন বলেন, ‘টার্মিনালে হাজার হাজার শ্রমিক আছেন, কেউ জানেন না, কী কারণে গাড়ি বন্ধ। মালিক সমিতি জানে না, ফেডারেশনের লোকজনও জানেন না। তাহলে গাড়ি বন্ধ করল কে? নছিমন–করিমনের দোহাই দিচ্ছে, তাহলে এত দিন প্রশাসন দেখল না। শ্রমিকেরা দিনের আয় দিয়ে দিন চালান। গাড়ি বসে থাকলে এই মানুষগুলোর কী হবে, কেউ ভাবল না?’

দিনাজপুর বাস টার্মিনাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এখান থেকে বিভিন্ন রুটে ২৫০টির বেশি বাস চলাচল করে। এর মধ্যে দিনাজপুর-রংপুর রুটে যাতায়াত করে ৬০টি বাস। এই বাসগুলোর সঙ্গে ২০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।

বাস টার্মিনালে কয়েকজন চালকের সহকারী বলেন, প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা আয় হয় তাঁদের। এর মধ্যে শুক্র ও শনিবার এমনিতেই যাত্রী কম থাকে। এর ওপর রংপুরে ধর্মঘট চলায় যাত্রী নেই বললেই চলে। প্রতি ট্রিপেই তাঁদের লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি করছেন তাঁরা।

রংপুরে চলমান বাস ধর্মঘটের বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাদিক রিয়াজ চৌধুরী বলেন, ‘ধর্মঘটের বিষয়ে আমরা ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি পাইনি। কেন্দ্রীয় কোনো সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেও এ ধর্মঘট হচ্ছে না। আমরা বাস চালু রেখেছি। তবে সৈয়দপুরের পর আর গাড়ি যেতে দিচ্ছে না।’