‘বয়স হালকা দেখে আমাকে হালকা ভাবার সুযোগ নাই’—তাঁতি দল নেতার হুঁশিয়ারি

সাদমান সাকিবের নেতৃত্বে গতকাল রাতে মশালমিছিল নিয়ে রাজশাহীর কর্ণহার থানার সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

রাজশাহীতে পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁতি দলের সাবেক এক নেতাকে কটাক্ষের অভিযোগে থানার সামনে মশালমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ওই নেতার অনুসারী নেতা-কর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে কর্ণহার থানার সামনে কর্মসূচি থেকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

যে নেতাকে কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে, তাঁর নাম সাদমান সাকিব। তিনি জেলা তাঁতি দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। বাড়ি জেলার পবা উপজেলার হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের দারুশা এলাকায়। নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে সাদমান সাকিব বলেন, তিনি সম্প্রতি তাঁতি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন ছাত্রদলের রাজনীতি করবেন। থানার সামনে কর্মসূচিকে ছাত্রদলের কর্মসূচি বলে দাবি করেছেন তিনি।

সাদমান সাকিবের অভিযোগ, গত ২৮ আগস্ট রাতে তাঁর দুই কর্মী তাঁকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। তখন কর্ণহার থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) উজ্জ্বল তাঁদের মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করেন। এ সময় এএসআই তাঁর নাম শুনে কটাক্ষ করে বাজে মন্তব্য করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রাতে সাদমান সাকিবের নেতৃত্বে মশালমিছিল নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে সাদমান সাকিব পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাদের থানার দালালি ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এ–সংক্রান্ত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সমাবেশে সাদমান সাকিব বলেন, ‘এই পবার মাটি আমাদের, এই হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের মাটি আমাদের। এই পবার রাস্তায়, হুজুরীপাড়ার রাস্তায় আমরা রাত বারোটা, একটায়, তিনটায় আমাদের যখন ইচ্ছা, চলাফেরা করব। কারণ আমরা পবার পাহারাদার, আমাদের থামানো যাবে না। বয়স হালকা দেখে আমাকে হালকা ভাবার কোনো সুযোগ নাই।’

পুলিশের উদ্দেশে তাঁতি দলের সাবেক এই নেতা বলেন, পুলিশ সন্দেহ হলে যে কাউকেই তল্লাশি করতে পারে। কিন্তু অন্যায়ভাবে তাঁদের কোনো কর্মীকে অপমান করলে তাঁরা বরদাশত করবেন না। তিনি বলেন, এএসআই উজ্জ্বলের আচরণ অত্যন্ত খারাপ। এ জন্য দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে হুজুরীপাড়া ইউনিয়নে আনন্দমিছিলের পরিবর্তে তাদের মশালমিছিল নিয়ে থানায় আসতে হয়েছে। এ সময় হুজুরীপাড়া ইউনিয়নে দলের কয়েকজন নেতাকে থানার দালালি ছাড়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে সাদমান সাকিবের অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, এএসআই উজ্জ্বল ও উত্তম অত্যন্ত ভদ্র ছেলে। তাঁদের কাছে বডিওর্ন ক্যামেরা আছে। ওই দিন রাতের ঘটনার প্রমাণ আছে।

পবার হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা দলীয় কোনো কর্মসূচি ছিল না। সাদমানের ব্যক্তিগত কর্মসূচি। গভীর রাতে তাঁকে বাসায় রেখে যাওয়ার সময় তাঁর যে দুজন কর্মী পুলিশের তল্লাশির সম্মুখীন হন, তাঁদের কারও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না, হেলমেট ছিল না। পুলিশ তাঁদের তল্লাশি করতেই পারে। আর সাদমানকে পুলিশ চিনবে, এমন তো কোনো কথা নেই। বরং তাঁর কর্মসূচিতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এ ব্যাপারে আজ ইউনিয়ন বিএনপি একটি বৈঠক ডেকেছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত আছেন জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম। তিনি বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠক চলছে। সাদমান সাকিবের কর্মসূচির কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ব্যাপারে সভায় করণীয় ঠিক করা হবে।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে সাদমান সাকিব বলেন, বৈঠক করতেই পারে। এ ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই। তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। আবার অন্যায় হলে এর চেয়ে বড় প্রতিবাদ করবেন।