ভাড়া বাসায় তৈরি হচ্ছিল ১ হাজার ও ৫০০ টাকার জাল নোট, পশুর হাটে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা
কক্সবাজারের টেকনাফের মুচনি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির–সংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়িতে তৈরি হচ্ছিল ১ হাজার ও ৫০০ টাকার জাল নোট। আজ রোববার সেখানে অভিযান চালিয়ে টেকনাফ বিজিবির তিনটি দল বিপুল পরিমাণ জাল নোট, জাল নোটের সরঞ্জাম ও দুটি ল্যাপটপ–কম্পিউটার জব্দ করে। এর আগে জাল নোট পাচার করার সময় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বিজিবি। তবে জাল নোট তৈরির কারিগরেরা পালিয়ে গেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার আলাউদ্দিনের ছেলে নাজমুল হক (৩০) এবং টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে আজিজুর রহমান (৩৬)। আজিজুর রহমান পেশায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালক এবং নামজুল ভাঙারি ব্যবসায়ী।
পুলিশ জানায়, এর আগে গত ৬ মার্চ রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মধ্যম মেরুংলোয়া গ্রামের বাবুল বড়ুয়ার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পাঁচ লাখ টাকার ১০০০ ও ৫০০ টাকার জাল নোট ও নোট তৈরির সরঞ্জামসহ মোহাম্মদ ইমরান (২৩) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা এলাকার লুৎফুর রহমানের ছেলে। ভাড়া বাসায় গোপনে জাল নোট তৈরি করছিলেন তিনি।
যেভাবে গোপন আস্তানা শনাক্ত
জাল নোট জব্দের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া টেকনাফ–২ বিজিবির উপ–অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার বলেন, সকালে জাল নোট পাচারের খবর পেয়ে বিজিবির তিনটি দল কক্সবাজার–টেকনাফ মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে টেকনাফের মুচনি সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় জাদিমুড়া থেকে হ্নীলাগামী একটি টমটমকে থামতে সংকেত দিলে সেটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে বিজিবির মোটরসাইকেল টিম ধাওয়া দিয়ে টমটমটি জব্দ করে। টমটমে থাকা কালো ব্যাগ তল্লাশি করে ১২টি বান্ডিলে রাখা ১২ লাখ টাকার জাল নোট ও পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় নাজমুল হক ও রোহিঙ্গা আজিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার বলেন, দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জাদিমুড়া বাজারের পূর্ব পাশে একটি টিনশেড ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় বিজিবি। অভিযানের খবর পেয়ে জাল নোট চক্রের কারিগরেরা ঘরটি তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে বিপুল পরিমাণ জাল নোট, একটি ল্যাপটপ, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, দুটি অত্যাধুনিক প্রিন্টার, কালি ও জাল নোট তৈরির কাগজ উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির উপ–অধিনায়ক বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গবাদিপশু কেনাবেচার জন্য দুষ্কৃতকারীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বিকেলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বিজিবিকে দেওয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নাজমুল হক জানান, আশ্রয়শিবির থেকে ১২ লাখ টাকার জাল নোট নিয়ে তিনি টেকনাফের হ্নীলা বাজারে যাচ্ছিলেন। সেখানে পৌঁছে দিলে তাঁকে ১০ হাজার টাকা কমিশন দেওয়ার কথা ছিল। টমটমযোগে জাল নোট পাচারের সময় তিনি বিজিবির হাতে ধরা পড়েছেন।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, রোহিঙ্গা–অধ্যুষিত এলাকায় ঈদকে কেন্দ্র করে একটি চক্র জাল নোট তৈরি করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন।
পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টেকনাফ, উখিয়া, রামু, চকরিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে নারী–পুরুষসহ শতাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন।