পঞ্চগড়ে পথের ধারে শোভা ছড়াচ্ছে রূপসী বুনো ফুল ল্যান্টানা

পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় পথের ধারে শোভা ছড়াচ্ছে রূপসী ল্যান্টানা। এসব ফুলে বসে মধু সংগ্রহ করছে প্রজাতিরা। সোমবার বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর এলাকায় তোলাছবি: রাজিউর রহমান

‘ফুল’ শব্দটি সামনে এলেই যেন এক অন্য রকম ভালো লাগা তৈরি হয়। পুলক জাগে দেহ-মনে। আর সেই ফুল যদি হয় নয়নাভিরাম, তাহলে তো আর কথাই নেই। দেশের সর্বোত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকার পথের ধারে নীরবে শোভা ছড়াচ্ছে এমনই এক রূপসী বুনো ফুল ‘ল্যান্টানা’।

পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলাতেই ফুলটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। গ্রীষ্ম আর বর্ষাকালে ল্যান্টানা ফুল এসব উপজেলার পথের ধার, ঝোপঝাড়ে অপরূপ সৌন্দর্যে মাতিয়ে রাখে।

গ্রীষ্মের মধ্যেই বৃষ্টিতে গাছপালা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সবুজে ভরে উঠেছে চারদিক। গাঁয়ের মেঠো পথের দুই ধারে ফুটতে শুরু করেছে ল্যান্টানা। স্নিগ্ধ শোভার সুরভিত ল্যান্টানার রূপে আকৃষ্ট হয়ে আসছে অনেক পাখি, প্রজাপতিসহ বিভিন্ন পতঙ্গ। রং বদলানো ল্যান্টানার নয়নাভিরাম শুভ্রতা আকৃষ্ট করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের।

সম্প্রতি পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর, মীরগড়, ধাক্কামারা, মাগুরা এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার আজিজনগর, ডাঙ্গাপাড়া, মাগুরা পাড়া, গোবরা নদী, মহানন্দা নদীর পাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এই বুনো ফুলকে গ্রামের পথগুলোর দুই পাশে, ঝোপঝাড়ে ও পতিত জমিতে চমৎকারভাবে ফুটে থাকতে দেখা গেছে। মনোমুগ্ধকর ল্যান্টানার অপরূপ সৌন্দর্য ফুলপ্রেমীদের মনে তৈরি করছে অন্য রকম ভালো লাগা। ল্যান্টানা ফুল গাছের পাতার গন্ধ মাদকতাময় হওয়ায় স্থানীয় ব্যক্তিদের অনেকে একে ‘মাথা ঘুরানি’ গাছ বলে থাকেন।

স্নিগ্ধ শোভার সুরভিত ল্যান্টানার রূপে আকৃষ্ট হয়ে আসছে অনেক পাখি, প্রজাপতিসহ বিভিন্ন পতঙ্গ। সোমবার বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর এলাকায় তোলা
ছবি: রাজিউর রহমান

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিদ্যালয়শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, ‘ল্যান্টানা আমাদের জেলার বিভিন্ন এলাকার পথের ধারে, নদীর পাড়ে শোভা ছাড়াচ্ছে। দেখতে চমৎকার এই বুনো ফুল নীরবে–নিভৃতে শোভা ছড়ায়। অনেকে এই এই ফুলের নাম না জানলেও সৌন্দর্য ঠিকই উপভোগ করেন। অনেককে দেখি ছবিও তুলে রাখেন।’

ল্যান্টানা (Lantana) একটি বহুবর্ষজীবী গুল্মজাতীয় ফুল গাছ। এর উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম হলো ল্যান্টানা কামারা (Lantana camara)। এর আদি নিবাস ক্রান্তীয় আমেরিকা। বর্তমানে এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যায়। পথের ধারে আগাছা হিসেবে জন্মানো এবং অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই উদ্ভিদ ভেষজ ও শোভাবর্ধনকারী হিসেবেই প্রধানত ব্যবহার হয়। ল্যান্টানা ফুল হলুদ, কমলা, গোলাপিসহ বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। ফুল ফোটার পর প্রথমে হলকা হলুদ রঙের হয়, ‘ক্যারোটিন’ থাকার কারণে। এ সময় ফুলে পরাগায়ন হয় এবং পরাগায়নের পরই মধুভাণ্ড শেষ হয়ে যায়, পরে এই ফুলের রং বদলাতে থাকে।

তেঁতুলিয়ার পরিবেশকর্মী মাহমুদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পথের ধারের বুনো সুন্দর ল্যান্টানা কেবল আমাদের মন ভালো করে দেয় তা নয়, একই সঙ্গে এই ফুল ইকোলজিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন এই ফুলের থেকে খোরাক জোগায় প্রজাপতিসহ অন্যান্য পতঙ্গ। প্রজাপতির পছন্দের ফুল হওয়ায় বেশির ভাগ সময়ই প্রজাতিরা এই ফুলে বসে থাকে।’