গত সোমবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ জন গরু পালনকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সহস্রাধিক গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। হঠাৎ গরুর শরীর গরম হয়ে জ্বর আসে। চামড়ায় গোটা গোটা ফোসকা পড়ে। এরপরে সেখানে চামড়া উঠে ক্ষত থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ সময় গরু অনেকটা খাওয়া ছেড়ে দেয়। ফলে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।

রাধানগর ইউনিয়নের পাঠানেরহাট, লালদীঘি, ডাঙ্গাপাড়া, মণ্ডলপাড়া, দামোদরপুর ইউনিয়নের আসমতপাড়া, আমরুলবাড়ি, জামালপুর, হাটখোলাপাড়া, বটতলী, পৌরসভার সরদারপাড়া, পকিহানা, থানাপাড়া, কালুপাড়া ইউনিয়নের শঙ্করপুর, ঝাঁড়পাড়া, বৈরামপুর, সরকারপাড়া, বটপাড়া, জামুবাড়ি, মধুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর, কাজিরহাট, সোনালীপাড়া, পাকারমাথা, খিয়ারপাড়া, নাওপাড়া, কাশিগঞ্জ, বালাপাড়া, আউলিয়াগঞ্জ এবং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চৌধুরীপাড়া, ঘৃনই, ওসমানপুর ও গাছুয়াপাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায় লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে গরু।

রাধানগর ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামের দিনমজুর মানিকুল ইসলাম জানান, তাঁর দুটি গরুর ওই রোগ হওয়ার পরে এক চিকিৎসক সাত হাজার টাকার ওষুধ লিখে দিয়েছেন। কিন্তু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। গ্রামের ঘরে ঘরে এ রোগে গরু আক্রান্ত হয়েছে।

বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আজমল হোসেন জানান, আক্রান্ত গরুর চিকিৎসায় মেডিকেল ক্যাম্প করা হচ্ছে। উপজেলায় দ্রুত রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় জনবলসংকটে সেবা প্রদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ওষুধ বরাদ্দও অপ্রতুল।

আজমল হোসেন আরও বলেন, মশা ও মাছি লাম্পি রোগের ভাইরাস ছড়ায়। এমনকি আক্রান্ত গরুর লালাযুক্ত খাবার অন্য গরুকে খাওয়ালেও এ ভাইরাস ছড়ায়। তাই আক্রান্ত গরুকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন