জেলা প্রশাসনের দেওয়া শর্তগুলো হলো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সব ধরনের ব্যানার-ফেস্টুনের ব্যবহার সীমিত করতে হবে এবং ব্যানার, ফেস্টুন, পতাকার স্ট্যান্ড হিসেবে কোনো লাঠি ব্যবহার করা যাবে না; ২৬ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে; মাইকের ব্যবহার সীমিত ও উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার করা যাবে না; দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, জাতীয় সংহতি ও রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়—এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না।

অন্য শর্তগুলো হলো সমাবেশে কুমিল্লা ও আশপাশের জেলা থেকে আগত লোকজনের যানবাহন (বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, ট্রাক, তিন চাকার যান) শহরে প্রবেশ করানো যাবে না; রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশের কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকতে হবে এবং মোটরশোভাযাত্রা ও মিছিল করা যাবে না; সমাবেশে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে নেতা-কর্মীদের যাওয়া–আসার পথে কোনো ধরনের নাশকতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড করা যাবে না; সমাবেশে আগত নেতা-কর্মীরা যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন, দায়িত্বশীল নেতা বা আয়োজকদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে; মঞ্চ তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউ সমাবেশ শুরুর আগে সমাবেশস্থলে ঢুকতে বা অবস্থান করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উদবাতুল বারী ওরফে আবু বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে। কোনো ধরনের হাঙ্গামা হবে না। এখানে পুরো বিএনপি এককাট্টা।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শর্ত তো প্রশাসন দেবেই। আমরা শর্তযুক্ত অনুমোদন পেয়েছি। এখানে তিন জেলার লাখো মানুষ একত্র হবে। মিছিল তো করবেনই নেতা-কর্মীরা।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, গণসমাবেশের কারণে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রশাসন শর্ত দিয়েই চিঠি দিয়ে থাকে বলে তিনি জানান।

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় নেতা-কর্মীদের হত্যা, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি এ গণসমাবেশ করবে। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন।