ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মোট ৩৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই–বাছাইয়ের পর বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন ২৬ জন; অর্থাৎ প্রতিটি আসনে গড়ে ৮ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলার তিনটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী দুটি আসনে প্রার্থী দিয়ে অন্যটি ছেড়ে দিয়েছে জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসনে ও গণ অধিকার পরিষদ একটি আসনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। আরও কয়েকটি দলের প্রার্থীও বিভিন্ন আসনে রয়েছে।
শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভিটা গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়ে আসছিলেন। যার কারণে জেলাটি আওয়ামী লীগের ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত। গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির এখন প্রকাশ্য কার্যক্রম নেই। ফলে আওয়ামী লীগের ভোট টানার চেষ্টা করছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। অনেক নেতা–কর্মী আওয়ামী লীগ ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন।
গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ)
কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিমুজ্জামান মোল্লা বিএনপির প্রার্থী। কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মাঝিগাতি গ্রামের বাসিন্দা সেলিমুজ্জামান গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে এলাকায় তৎপর রয়েছেন। সেলিমুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে সম্প্রীতির মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী গড়ে তুলব। ভোটের পরিবেশ এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি।’
আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী শুরা সদস্য ও জেলা কমিটির সাবেক আমির মুহাম্মাদ আবদুল হামিদ। আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের বিভিন্ন প্রার্থী ও তাঁর পক্ষের লোকজন হুমকি দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এটা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ ভালো থাকবে না।’
এই আসনে মোট ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর বৈধ অন্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মিজানুর রহমান, জনতার দলের মো. জাকির হোসেন, কমিউনিস্ট পার্টির নীরদ বরন মজুমদার, এবি পার্টির মো. প্রিন্স আল আমিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইমরান হুসাইন আফসারী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম আনিসুল ইসলাম ও সুলতান জামান খান।
গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর সাত ইউনিয়ন)
যাচাই–বাছাইয়ে এই আসনের ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বর্তমানে বৈধ প্রার্থী আছেন আরও সাতজন। বিএনপির প্রার্থী দলের জেলার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কে এম বাবর। তিনি বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আরেক সদস্য এম এইচ খান মঞ্জু দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
কে এম বাবর প্রথম আলোকে বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে মাদক নির্মূল, সবার সহাবস্থান এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শুয়াইব ইব্রাহিমকে সমর্থন জানিয়ে গোপালগঞ্জ–২ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। অবশ্য শোয়াইব ইব্রাহিমকে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণায় দেখা যায়নি।
গোপালগঞ্জ–৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া)
বিএনপির প্রার্থী ২০০৮ ও ২০১৮ সালে নির্বাচন করা স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই তিনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার অনেক আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এস এম জিলানী বলেন, ‘আমি চাই, প্রত্যেক ভোটার যেন কোনো ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।’
আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা আমির এম এম রেজাউল করিম। তিনিও তফসিল ঘোষণার আগে থেকে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
আসনটিতে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বাছাইয়ের পর বৈধ অন্য প্রার্থীরা হলেন গণ অধিকার পরিষদের আবুল বশার, ইসলামী আন্দোলনের মারুফ শেখ, এনসিপির মো. আরিফুল দাড়িয়া, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শেখ সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আ. আজিজ, গণফোরামের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, খেলাফত মজলিসের আলী আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান।