রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক সিয়াম বিন আইয়ুব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে সংঘটিত বিভিন্ন অশোভন আচরণ ও উসকানিমূলক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, কর্মসূচি আজ সোমবার বেলা একটায় অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক কালে ক্যাম্পাসে সংঘটিত বিভিন্ন অশোভন আচরণ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসের শিক্ষাবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় এবং সংশ্লিষ্ট রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির মূল্যায়ন ও মনোসামাজিক সহায়তার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কর্মসূচিতে প্রত্যেক হল ও অনুষদের নেতা-কর্মীকে অংশগ্রহণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।
কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রের অবহেলায় দিন দিন রাবিতে উন্মাদের সংখ্যা বাড়ছে। এ রকমই এক বদ্ধ উন্মাদ সালাহউদ্দিন আম্মার। উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে সে ক্রমশ শিক্ষার্থী থেকে প্রশাসকের ভূমিকায় অভিনয়ের ভীমরতিমূলক জটিলে রোগে আক্রান্ত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবরেণ্য মনোবিদ ও পূর্ণাঙ্গ মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদ্বয়ের অবহেলায় মেধাবী শিক্ষার্থীটি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অশোভন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। এতে করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের মাঝে ফাটল দেখা দিচ্ছে।’
২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে উল্লেখ করে সুলতান আহমেদ রাহী লিখেছেন, ‘বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও “মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্র” তার সঠিক পরিচর্যা না করায় এহেন অছাত্রসুলভ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। অনতিবিলম্বে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক চিকিৎসা করার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি। চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো ধরনের বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না, ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গৃহিত না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরের সামনে প্যারিস রোডে টানানো এ ব্যানার গতকাল দুপুরে ছিঁড়ে ফেলেন আম্মার। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আম্মার তাঁর ফেসবুক পোস্টে জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদারকে বেলা দুইটার আগে ব্যানার খুলে নেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পোষ্য কোটা বহালের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনসহ একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তার সঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মারের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। গত ১৭ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়া আওয়ামী লীগপন্থী ডিনদের পদত্যাগের সময় বেঁধে দেন এবং ডিনদের চেয়ারে দেখলে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ‘বাকিটা বুঝিয়ে দেব’ ব লে হুঁশিয়ারি দেন। পরে তিনি সেই ডিনদের পদত্যাগপত্র লিখে এনে একে একে সবাইকে কল দেন এবং প্রশাসন ভবনের সব দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামীপন্থী ছয় ডিন রুটিন দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানান। এ ছাড়া ১৯ ডিসেম্বর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা চাকরি করলে তাঁদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।