গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে উপজেলার বীরবেতাগৈর ইউনিয়নের বীরকামটখালী গ্রামে যান এই প্রতিবেদক। বীরকামটখালী উত্তর বাজারের পাশের একটি পাড়ার কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাঁরা বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি প্রকল্পের নাম হলো ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর পুওরেস্ট (আইএসপিপি)। এটি যত্ন প্রকল্প নামে গ্রামের নারীদের কাছে পরিচিত। এ প্রকল্পে একজন নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত হলে তাঁর সন্তান জন্মদানের পর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারিভাবে প্রতি মাসে চার হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন।

বীরকামটখালী গ্রামের আবদুর রহিমের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বলেন, তিনি তখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তখন লাইলি যত্ন প্রকল্পের একটি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে চার হাজার টাকা নিয়েছিলেন। এখন তাঁর সন্তানের বয়স দুই বছর। কিন্তু ইউপি সদস্য লাইলি তাঁকে কার্ড করে দেননি। টাকাও ফেরত দেননি।

একই গ্রামের ওয়াহিদের স্ত্রী অজুফা আক্তার বলেন, প্রতিবেশী একজনের কাছ থেকে মাসিক ৩০০ টাকা সুদে ৪ হাজার টাকা ধার এনে লাইলিকে দিয়েছিলেন। তিনি কিন্তু তাঁকে কার্ড করে দেওয়া হয়নি। টাকাও ফেরত দেননি। তিনি এখন কাজ করে সুদের টাকা পরিশোধ করছেন। নুর নাহার (৬০) নামের এক নারী তাঁর নাতির জন্য একটি কার্ড পেতে চার হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই কার্ড আর করে দিতে পারেননি ওই ইউপি সদস্য লাইলি।

বীরবেতাগৈর ইউপির অস্থায়ী কার্যালয়ে গিয়ে লাইলিকে পাওয়া যায়। তাঁর কাছে যত্ন প্রকল্পের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে নারীদের অভিযোগের বক্তব্যের ভিডিওচিত্র দেখানো হলে লাইলি একপর্যায়ে বলেন, তিনি ওই নারীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নেননি। তাঁদের তিনি চেনেনও না। তাঁর পরিচিত হেলেনা হতদরিদ্র নারীদের কাছ থেকে টাকা এনে দিয়েছেন। তবে এভাবে টাকা নেওয়া তাঁর ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেন লাইলি। তিনি ওই টাকা ফেরত দিয়ে দেবেন বলে এ প্রতিবেদকে জানান।

তবে মুঠোফোনে হেলেনা বলেন, তিনি একসময় একটি এনজিওর কর্মী হিসেবে যত্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে লাইলিকে দেননি। বরং হতদরিদ্র অনেক নারী যত্ন প্রকল্পের কার্ড পাওয়ার জন্য লাইলির বাড়িতে গিয়ে টাকা দিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া তিনি যত্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কাউকে কার্ড করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা তাঁর ছিল না।

এ বিষয়ে বীরবেতাগৈর ইউপির চেয়ারম্যান মো. আবদুল মতিন বলেন, তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে ইউপির কাজ চালাচ্ছেন। কোনো ইউপি সদস্য বেআইনি কাজ করলে তাঁর দায়দায়িত্ব তিনি নিজে বহন করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন