গত শনিবার সকালে উপজেলার ধনাগোদা নদীর বাইশপুর, গাজীপুর, কাজিরবাজার ও মাছুয়াখাল এলাকায় এবং মতলব-বাবুরহাট, বাইশপুরসহ আরও কয়েকটি খালে দেখা যায়, সেখানে কিছু ভেসাল ও কারেন্ট জাল এবং চীনা চাঁই পাতা রয়েছে। সেগুলোয় প্রচুর পরিমাণে নিধন হচ্ছে জাটকা, ট্যাংরা, বজুরি, পুঁটি, পাবদা, শিং, কই, আইড়সহ বিভিন্ন জাতের ছোট-বড় দেশি মাছ। এসব জাল ও চাঁইয়ে ব্যাঙ, কুঁচিয়া, সাপসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও নির্বিচার নিধন হচ্ছে।

উপজেলার বরদিয়া এলাকার কলেজশিক্ষক মো. কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বাড়ির পাশেই মতলব-বাবুরহাট খাল। খালটির ৩০-৩৫টি অংশে ভেসাল জাল পাতা, কিছু অংশে চীনা চাঁইও পাতা হয়েছে। এসব জালে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে জাটকা, বজুরি, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন দেশি মাছ নিধন হচ্ছে। সাপ, ব্যাঙসহ অন্যান্য প্রাণীও ধরা পড়ছে। এভাবে চললে এসব মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য অস্তিত্ব হারাবে। এসব জালের মজুত, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যথাযথ নজরদারি না থাকায় এমনটি হচ্ছে।

উপজেলা সদর মাছবাজারের মাছ বিক্রেতা পবিত্র দাস বলেন, কয়েক দিন ধরে এ বাজারে প্রতিদিন তিন-চার মণ ছোট-বড় দেশি জাতের মাছ বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার মতলব সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা আক্তার বলেন, তাঁর উপজেলায় যে পরিমাণে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। এটি অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশি জাতের মাছ ও জলজ প্রাণী হারিয়ে যাবে। এতে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে গত এক মাসে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে চারটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৩৭ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৬৯০টি চীনা চাঁই জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা হক বলেন, নিষিদ্ধ জালের মজুত, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে তাঁর প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের নজরদারি না থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন