মোংলা ডিপোয় তেলের গরমিল, ব্যবস্থাপক সাময়িক বরখাস্ত

যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের লোগো

যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনে মজুত তেলের পরিমাপে উল্লেখযোগ্য গরমিল ধরা পড়েছে। কাগজপত্রের সঙ্গে বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখা যায়, তিনটি ট্যাংকের মধ্যে দুটিতে অতিরিক্ত ও একটিতে কম তেল রয়েছে। এ ঘটনায় ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

কোম্পানির দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তেলের পরিমাণ ইচ্ছাকৃতভাবে কম–বেশি দেখিয়ে পরবর্তী সময় চুরির সুযোগ তৈরি করা হয়, এমন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোংলা ডিপো থেকে তেল সরবরাহ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. আল আমিন খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এর আগে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশের যৌথ দল খুলনার বাগেরহাটে অবস্থিত মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. আল আমিন খানের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্টক রেজিস্টার ও নথিপত্র উপস্থাপন করেন। পরে মেজারিং টেপ ব্যবহার করে তিনটি ট্যাংকের তেলের পরিমাণ সরাসরি পরিমাপ করা হয় এবং তা নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।

প্রথম আলোর হাতে আসা তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১ নম্বর ট্যাংকে মজুত পাওয়া গেছে ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৭ লিটার, যা কাগজপত্রের তুলনায় ৯৩২ লিটার বেশি। ৯ নম্বর ট্যাংকে পাওয়া গেছে ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৫ লিটার, যা নথিভুক্ত পরিমাণের চেয়ে ১২ হাজার ৮১৮ লিটার বেশি। অন্যদিকে ১৪ নম্বর ট্যাংকে মজুত পাওয়া গেছে ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ লিটার, যা কাগজপত্রের তুলনায় ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম।

সব মিলিয়ে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেলের হিসাবে গরমিল পেয়েছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এত বড় অঙ্কের গরমিল স্বাভাবিক পরিমাপ ত্রুটির মধ্যে পড়ে না। বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।