আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জেলা ও মহানগর কমিটিতে নিজেদের পছন্দের নেতাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ‘দেখতে চেয়ে’ নগরজুড়ে তোরণ, ফেস্টুন ও পোষ্টার সাঁটিয়েছেন। সম্মেলনের দিন ঘনিয়ে আসায়, এ ধরনের প্রচারণা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনায় নগরের বিভিন্ন সড়কে বাঁশের খুঁটি গেড়ে নেতাদের নামে ‘ব্লক’ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সড়কে অনেক তোরণ নির্মাণের কাজ চলতে দেখা যায়। ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন। নগরের সার্কিট হাউস সড়ক ছাড়াও নতুন বাজার, গাঙ্গিনারপার এবং চরপাড়া এলাকা ছেয়ে গেছে ছোট–বড় অসংখ্য তোরণ ও ফেস্টুনে।

■ ছয় বছর পর আওয়ামী লীগের এ দুই শাখার সম্মেলন হতে যাচ্ছে। 

■ নতুন কমিটিতে কারা স্থান পাবেন, এ নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে।

সম্মেলনের আগে ব্যাপকভাবে প্রচারণা প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক বলেন, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে তোরণ ও ফেস্টুন টানানোর বিষয়টি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। একপর্যায়ে তিনি কিছুটা রসিকতা করে বলেন, ‘সবাই যেভাবে তোরণ আর ফেস্টুন টানিয়েছে, তাতে আমার নিজের জন্য কোনো জায়গা নেই।’

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, সম্মেলন ঘিরে জেলা ও মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে দুটি কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এর আগে ১৪ বছর পর ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল। ওই দিন সম্মেলনস্থলে কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। পরে ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী জহিরুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়। ওই ঘোষণায় ১৪ বছর পর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়। মহানগর কমিটিতে সভাপতি এহতেশামুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোহিত উর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে জেলার ১৩ উপজেলার মধ্যে ৯টিতে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করা হয়। ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। ফুলপুর, ময়মনসিংহ সদর ও নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন এখনো হয়নি।

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক বলেন, ‘সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যে ময়মনসিংহের উপজেলা আওয়ামী লীগকে জানিয়েছি। নতুন কমিটি কী প্রক্রিয়ায় হবে সেটি নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় কমিটি। আমাদের আশা, সম্মেলনের মাধ্যমে একটি ভালো কমিটি হবে।’