নদীতে নামার ঘণ্টাখানেক পর ব্যাগভর্তি ঝিনুক নিয়ে কূলে ফিরে এলেন আবুল হোসেন গাজী। তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে গাঙে ঝিনুক কুড়িয়ে বেশ আয় হচ্ছে। একেকজন ৭০ থেকে ৮০ কেজি ঝিনুক সংগ্রহ করতে পারেন। কখনো কখনো কম হয়। প্রতি কেজি ৩ থেকে ৪ টাকায় বিক্রি করে দিনে ৩০০-৩৫০ টাকা আয় হচ্ছে। পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী এই ঝিনুক কিনে নেন। এটা দিয়ে চুন তৈরি করে বিক্রি করেন তাঁরা।

ওই সময় একটি ঝুড়িতে ভরা ঝিনুক নিয়ে তীরে আসেন দেয়াড়া গ্রামের শাহিনুর রহমান। বললেন, তাঁরা সপরিবার ঝিনুক কুড়াচ্ছেন। আবার তিনি এলাকার লোকদের কাছ থেকে ঝিনুক কিনে চাঁদখালী বাজারেও বিক্রি করছেন। এখন নদীতে ঝিনুক কম পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম দিকে ৩ ঘণ্টায় ৪ মণ পর্যন্ত ঝিনুক পেয়েছেন। তবে এখন পাচ্ছেন এক মণের মতো।

হাফিজুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘আমি এলাকা থেকে ঝিনুক কিনে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা মণ বিক্রি করেছি। এই নদী থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ মানুষ ঝিনুক তুলছেন। আগে কখনো এগুলো বিক্রি হতে দেখিনি। মাঝেমধ্যে কুড়াতে দেখতাম। হঠাৎ করে গত ১০-১৫ দিন ধরে এই এলাকায় এগুলো বিক্রি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। আর তখন থেকে নদীতে লোকের সংখ্যা বাড়ছে। দিনে দিনে নদীতে ঝিনুক কমে যাচ্ছে।’

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শামুক-ঝিনুক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাঁরা যেসব জলাশয়ে থাকে, সেখান থেকে ময়লা-আবর্জনা খেয়ে পানি দূষণমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। এ জন্য তাদের প্রকৃতির ফিল্টার বলা হয়। এই জনপদের মানুষের জীবন ও জীবিকা কৃষি ও নদীকেন্দ্রিক। ভূমিহীন গরিব পরিবারগুলো নদীতে মাছ ধরা, ঝিনুক সংগ্রহের কাজ করেই বেঁচে থাকেন।