ডিবি পরিচয়ে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এক ব্যক্তিকে সন্দেহ পুলিশের

মোটরসাইকেলে থাকা আবদুর রহমানের পথ আটকে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরাছবি: সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে এক ব্যাংক এজেন্টের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। লুট হওয়া টাকাও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের বসুরহাট শাখার সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁকে আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ব্যাংক এজেন্টের নাম আবদুর রহমান। তিনি ইসলামী ব্যাংকের আবু মাঝিরহাট এজেন্ট শাখার ইনচার্জ। গতকাল সোমবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তাঁর কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল রাতে তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

আবদুর রহমান জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার দিকে তিনি ইসলামী ব্যাংকের বসুরহাট শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা তুলে মোটরসাইকেলে নিজ গন্তব্যে (ইসলামী ব্যাংক আবু মাঝিরহাট এজেন্ট শাখায়) যাচ্ছিলেন। এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে পাঁচজনের একটি দল তাঁর গতিরোধ করে। ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবির সদস্য পরিচয় দেন। এরপর তাঁর কাছে মাদক রয়েছে দাবি করে গায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে, হ্যান্ডকাপ পরিয়ে, জোর করে একটি প্রাইভেট কারে তোলেন। গাড়ির ভেতর তাঁর চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর অস্ত্রের মুখে ১২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন ওই দুর্বৃত্তরা। টাকা ছিনতাইয়ের পর কবিরহাট উপজেলার নবীর দোকানের পাশে একটি স্থানে তাঁকে হাত-চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, ব্যাংক এজেন্টের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। তবে এরই মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বসুরহাট শাখার সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির পিঠে একটি কালো ব্যাগ ঝোলানো ছিল। তাঁর পরনে কালো প্যান্ট ও গায়ে পোলো শার্ট দেখা গেছে। সিসিটিভির ফুটেজে তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তাঁকে আটকের চেষ্টা চলছে।