বাসি খাবার মুখেই তোলে না, ৩২ মণ ওজনের ‘জমিদারের’ দাম হাঁকা হচ্ছে ১৩ লাখ
বাসি বা পচা খাবার একদম মুখে তোলে না। খাবার বাছাইয়ের বেলায় এমন আভিজাত্য দেখে আদর করে এর নাম রাখা হয় জমিদার। ১১ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট উচ্চতার জমিদারের সাদা শরীরে থাকা সুসজ্জিত কালো কালো ছোপ সহজেই নজর কাড়ে। প্রায় ৩২ মণ ওজনের গরুটিকে দেখতে প্রায়ই ভিড় জমছে স্থানীয় মানুষের।
জমিদারের জন্ম জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামে। ভালোবেসে গরুটির এ নাম রেখেছেন মালিক রোজিনা বেগম। রোজিনার সঙ্গে তাঁর স্বামী রফিকুল ইসলাম চার বছর ধরে ষাঁড়টি পালন করছেন। তাঁদের দাবি, বর্তমানে এটিই উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু।
গতকাল শুক্রবার মাহমুদপুরে গিযে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় একটি গোয়ালঘরে জমিদারকে বেঁধে রাখা হয়েছে। সামনে রাখা তাজা ঘাস। যত্ন নিয়ে গরুটিকে ঘাস খাওয়াচ্ছেন রোজিনা। পরে রোজিনা পাইপের সাহায্যে গরুটিকে গোসল করান। বিশাল গরুটি দেখতে লোকজন বাড়ির আঙিনায় ভিড় করেছেন। তাঁদের দেখে গরুটি বারবার তেড়ে যাচ্ছিল। তবে গরুটির শরীরে হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন রোজিনা।
জমিদারকে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় হাটে তোলার পরিকল্পনা আছে জানিয়ে রোজিনা ও রফিকুল দম্পতি বলেন, তাঁরা ষাঁড়টির দাম হেঁকেছেন ১৩ লাখ টাকা। রোজিনা বেগম বলেন, তাঁদের একটি পালিত গাভি ছিল, এটির থেকেই জমিদারের জন্ম। জমিদারের বয়স এখন চার বছর। তাঁরা দেশীয় পদ্ধতিতে গরুটিকে হৃষ্টপুষ্ট করেছেন। জমিদার বাসি ও নিম্নমানের খাবার খায় না। তাই প্রয়োজনমতো ভালো খাবার দেন ও পরিচর্যা করেন। দিনে দিনে ওজন বেড়ে গরুটি ৩২ মণে এসে দাঁড়িয়েছে।
ষাঁড়টির নামকরণ প্রসঙ্গে রোজিনা বেগম বলেন, মানুষ যেমন জমিদারের মতো ভালো খাবার খায়, তেমনি এই গরুকেও বিশেষ যত্নে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন গরুটির খাদ্যতালিকায় থাকে গমের ভুসি, ভুট্টার গুঁড়া, কালাই ভুসি, সবুজ ঘাস, কলা এবং হাঁসের ডিম। এ কারণেই আদর করে গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’। রোজিনার দাবি, নাম ধরে ডাকলেই ষাঁড়টি সাড়া দেয়। এমনকি কোনো কথা বললেও মনোযোগ দিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
মেলান্দহ শহর থেকে ষাঁড়টিকে দেখতে এসেছিলেন ফিরোজ মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘এত বড় গরু এ উপজেলায় মনে হয় আর নেই। কয়েকজনের কাছে জমিদার নামটি শুনেছিলাম, তাই দেখতে এসেছি।’ স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, ‘আমরা এত দিন শুধু বড় গরুর গল্পই শুনেছি, কিন্তু এবার নিজের চোখে দেখলাম।’
প্রতিদিন ষাঁড়টির পেছনে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয় জানিয়ে মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খাবারের তালিকায় থাকে কলা, হাঁসের ডিম, দেশি ঘাস, ভুট্টা আর গমের ভুসি। নিজের সন্তানের মতো করেই যত্ন নিই, নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে গোসলও করাই। গত বছর ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম উঠেছিল, তবু বিক্রি করিনি। মনে হয়েছিল, আরও একটু বড় হোক, আরও সুন্দর হোক।’
জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ টি এম হাবিবুর রহমান বলেন, ছোট খামারিরাও এখন বড় আকৃতির গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গরুটির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।