নরসিংদী সদরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৫

নরসিংদীর সদর উপজেলার কাকশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত এক কর্মী
ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্রে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় ৪০ মিনিট ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। আজ সকাল নয়টার দিকে উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের কাকশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন কাপ-পিরিচ প্রতীকের আনোয়ার হোসেন, আনারস প্রতীকের আবদুল বাকির, দোয়াত-কলম প্রতীকের মো. জলিল হোসেন ও মোটরসাইকেল প্রতীকের হালিমা হাবিজ। এর মধ্যে মাধবদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং শীলমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল বাকিরের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আনারস প্রতীকের প্রার্থী আবদুল বাকিরের সমর্থক স্থানীয় যুবলীগ নেতা মনির মোল্লার সমর্থকেরা কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারতে যান। এ সময় কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের সমর্থকেরা তাঁদের বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রায় ৪০ মিনিট ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের হস্তক্ষেপে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন ওই এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে হুমায়ূন কবির ওরফে লিটন (৪৩) এবং নজরুল সিদ্দিকের ছেলে আবু সিদ্দিক (২৮)। তাঁরা দুজনই কাপ-পিরিচ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের সমর্থক।

কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. কাউছার আহমেদ জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহতের ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হলে প্রায় ৪০ মিনিট ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের হস্তক্ষেপে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

জানতে চাইলে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আরেফিন বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে স্বাভাবিক ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটকেন্দ্র দখল ও সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’