ফুচকার অর্ডার দেওয়া নিয়ে হাতাহাতি, পরে বাড়িঘর ভাঙচুর, খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ
ঈদের দিন বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে দোকানে ফুচকার অর্ডার আগে কে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে হয়েছিল কথা–কাটাকাটি ও হাতাহাতি। সেই ঘটনার জেরে এক গ্রামের বাসিন্দারা অন্য গ্রামে হামলা চালিয়ে ১৫-২০টি বাড়ি ভাঙচুর করেছেন। এ সময় ৩০-৪০টি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে দুপুর ১২টার দিকে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেলে উচাখিলা ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের মরিচারচর বটতলা গ্রামের তুহিন মিয়া নামের এক তরুণ তাঁর বোনকে নিয়ে ঘুরতে যান। তিনি ফুচকার দোকানে অর্ডার দেন। এ সময় চর আলগী গ্রামের কয়েক তরুণ ওই দোকানে ফুচকার অর্ডার দেন। ফুচকা আগে–পরে দেওয়া নিয়ে ওই দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চরআলগী ও মরিচারচর গ্রামের তরুণদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন দুই পক্ষকে সরিয়ে দেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
এর মধ্যেই গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে ইব্রাহিম খলিল নামের এক ব্যবসায়ীকে ডেকে চরআলগী গ্রামে নিয়ে মারধর করেন সেখানকার বাসিন্দারা। এর জের ধরে আজ মরিচারচর গ্রামের কয়েক শ বাসিন্দা দেশি অস্ত্র নিয়ে চরআলগী গ্রামে হামলা করেন। তাঁরা ১৫-২০টি বাড়ি ভাঙচুর ও ৩০-৪০টি খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করেন।
এ সময় চরআলগী গ্রামে নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে রান্না করা খাবার ও অতিথিদের বসার স্থান তছনছ করা হয়। ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোনো ঘটনার সঙ্গেই জড়িত নই। বিনা কারণে বিয়েবাড়িতে হামলা চালিয়ে সব তছনছ করে দিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। বর আসার আগেই এই ঘটনা ঘটে। পরে মেয়েকে অন্য বাড়ি থেকে বরপক্ষের কাছে তুলে দেওয়া হয়।’
মরিচারচর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘ঈদের বিকেলে বোনকে নিয়ে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে ঘুরতে গেলে আমাদের গ্রামের এক তরুণকে হামলা করে চর আলগী গ্রামের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে আমি বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। গতকাল রাতে আমাকে এলাকায় সমাধানের জন্য নিয়ে আক্রমণ করে। এতে গ্রামের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে।’
চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা মো. কেনান বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে এত লোক নিয়ে আমাদের গ্রামে সন্ত্রাসী হামলা করা হয়েছে। আমরা তাদের বিচার দাবি জানাচ্ছি।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, ফুচকার অর্ডার আগে–পরে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর ও খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে দুজন আহত হন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।