আশুলিয়া থেকে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর লাশ উদ্ধার, স্বামী উধাও
ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরী (১৬) গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন ও হাতের কবজিতে কাটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই কিশোরীর পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
নিহত কিশোরীর নাম রুমানা আক্তার (রুমি)। স্বামী বিল্লালের সঙ্গে আশুলিয়ার পবনারটেক এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। বিল্লালের বাড়ি রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলায়।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কের পর দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে বিল্লাল ও রুমানার বিয়ে হয়। এরপর রুমানা রংপুরে তার স্বামীর বাড়িতেই থাকত। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে রুমানাকে বিভিন্ন সময় মারধর করেন বিল্লাল। তিন মাস আগে রুমানা আশুলিয়ার পবনারটেক এলাকায় মা জাহানারার কাছে চলে আসে। রুমানার মা ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। পরে বিল্লাল তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রুমানাকে ফিরিয়ে নিতে পবনারটেকের বাসায় আসেন। তবে রুমানা যেতে না চাওয়ায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না জানিয়ে বিল্লালকে ওই বাসায় রেখে যায় তাঁর পরিবার। পরে বিল্লাল স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাসায় থাকতে শুরু করেন। রুমানা ক্যাপ তৈরির কারখানায় কাজ নেয়।
রুমানার স্বজনেরা জানান, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে মায়ের সঙ্গে ঘুমায় রুমানা। আজ শনিবার সকাল ছয়টার দিকে মা কাজে চলে যান। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রুমানার মা জানতে পারেন, রুমানাকে হত্যার পর বিল্লাল ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। পরে তিনি বাসায় এসে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
জাহানারা বেগম বলেন, তাঁর মেয়ে রুমানা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। বিয়ের পর থেকে বিল্লাল অনেকবার রুমানাকে মারধর করেছেন। আজ মেরে বাসা থেকে টাকা, মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
৯৯৯–এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যায় আশুলিয়া থানা–পুলিশের একটি দল। তারা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানী ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে পাঠিয়েছে।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক শফিউল আলম সোহাগ বলেন, মরদেহের গলায় ধারালো কিছুর আঘাতের চিহ্ন ও দুই হাতের কবজিতে কাটা দাগ রয়েছে। বিল্লালকে আটকের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।