এবার গাইবান্ধায় হিমালয়ান শকুন উদ্ধার
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা থেকে একটি হিমালয়ান গৃধিনী প্রজাতির শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তীর’ গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সদস্যরা শকুনটি উদ্ধার করে।
এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫টির বেশি ক্লান্ত ও অসুস্থ হিমালয়ান গৃধিনী। প্রতিবছর এ রকম শ খানেক শকুন আসে এবং এর মধ্যে প্রায় ৪০টি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের (তীর) সদস্যরা জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পলাশবাড়ী উপজেলার মাঠেরহাট হাশনেরপাড়া গ্রামের আকাশে কয়েকটি হিমালয়ান শকুন উড়তে দেখেন এলাকাবাসী। এগুলোর মধ্য থেকে একটি শকুন ক্লান্ত হয়ে গ্রামের একটি গাছের মগডালে বসে। পরে সেটি খাবারের খোঁজে মাটিতে নেমে আসে। শকুনটিকে এলাকাবাসী ধরে আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সদস্যরা গাইবান্ধা বন বিভাগের এক কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আজ সকালে মাঠেরহাট হাশনেরপাড়া গ্রাম থেকে শকুনটি উদ্ধার করেন। তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি জাহিদ রায়হান, কার্যকরী সদস্য জাকারিয়া ইসলাম, সদস্য রাশেদুল ইসলামসহ চারজন এ উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন।
জাহিদ রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুরে শকুনটিকে দিনাজপুর সিংড়া জাতীয় উদ্যানের শকুন পরিচর্যাকেন্দ্রে পাঠানো হয়। এ ছাড়া তীরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত হাসানের পরামর্শে এ বিষয়ে ওই এলাকায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
একই বিষয়ে তীরের উপদেষ্টা ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শকুন হচ্ছে প্রকৃতির ঝাড়ুদার। শকুন বড় ডানার বৃহদাকার পাখি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টির অধিকারী শকুন রোগাক্রান্ত প্রাণীর মৃতদেহ খেয়ে সংক্রমণজনিত অনেক রোগ থেকে অন্যান্য প্রাণীকে রক্ষা করে।
বাংলাদেশে সাত প্রজাতির শকুন ছিল। এর মধ্যে রাজশকুন পুরোপুরি বিপন্ন হয়ে গেছে। এ দেশের স্থায়ী বাংলা শকুন ও সরুঠোঁটি শকুনও রয়েছে খুব কম।আইইউসিএনের হিসাবে, দেশে ২৬০টির মতো বাংলা শকুন টিকে আছে। এ ছাড়া দেশে তিন প্রজাতির পরিযায়ী শকুন দেখা যায়। এর মধ্যে হিমালয়ান গৃধিনী অন্যতম।
প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর জোট আইইউসিএনের শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের মুখ্য গবেষক সারোয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, হিমালয়ের ঠান্ডা ও হিমঝড়ের কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে হিমালয়ান গৃধিনীগুলো সমতলের দিকে আসে। মার্চের দিকে আবার চলে যায়। একেকটা শকুনকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার আকাশপথ পাড়ি দিতে হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সমতলে এসে তারা পর্যাপ্ত খাবার পায় না। তাই ভ্রমণক্লান্তিতে বিভিন্ন এলাকায় মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।
আইইউসিএনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, প্রচারণার ফলে বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের যেকোনো স্থানে অসুস্থ শকুন পেলে স্থানীয় লোকজন তীর–এর স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে খবর দেন। স্বেচ্ছাসেবীরা সেগুলো উদ্ধার করে প্রাথমিক পরিচর্যার পর ‘শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যাকেন্দ্রে’ হস্তান্তর করেন।
সারোয়ার আলম বলেন, একেকটি হিমালয়ান গৃধিনীর ওজন ১৩ কেজি পর্যন্ত হয়। তবে বাংলাদেশে তাদের যখন পাওয়া যায়, তখন ওজন থাকে চার-পাঁচ কেজি। মরা প্রাণী তাদের প্রধান খাদ্য। খাদ্য ও বাসস্থানসংকটে দেশে শকুনদের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।