কৃষকেরা বলেন, বসুন্দিয়া গ্রামে ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে আনারসের চাষ হয়ে আসছে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ি এবং আশপাশের পতিত জমিতে রয়েছে দেশি প্রজাতির আনারসের বাগান। মৌসুমে প্রতিটি গাছে একটি করে আনারস ধরে। মাঘ-ফাল্গুন মাসে আনারসের ফুল ফোটে। এরপর ফুল থেকে ফল হয়। ফল একটু বড় হলে মাথার ফুল কেটে ফেলতে হয়। জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে আনারস পাকতে শুরু করে। শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আনারস পাওয়া যায়। আনারসের গোড়ার দিকে ২টি থেকে ১০টি পর্যন্ত চারা গজায়। এই চারা কিছুদিন মাটিতে রেখে পরিচর্যা করতে হয়। এরপর বাগানে লাগাতে হয়। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এই চারায় আনারস ধরে। আনারস শেষ হয়ে যাওয়ার পর গাছের গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হয়। এ ছাড়া আর কোনো পরিচর্যা লাগে না। স্বাদে টক–মিষ্টি ধরনের।

বসুন্দিয়া গ্রামের হায়দার আলী খানের ১২ কাঠা জমিতে দেশি প্রজাতির আনারসের বাগান আছে। এ পর্যন্ত তিনি ৭৬৮টি আনারস বিক্রি করেছেন। আরও আনারস আছে। তিনি বলেন, ‘দেশি প্রজাতির এই আনারসের চাহিদা অনেক। মৌসুমের শুরুতে প্রতিটি আনারস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। পরে দাম কিছুটা কমে। নিজেরা খাই। অবশিষ্ট আনারস বিক্রি করে বেশ টাকাও আয় হয়।’

১০ কাঠা জমিতে আনারসের বাগান আছে গ্রামের কৃষক আবদুল কুদ্দুস মুন্সীর। তিনি বলেন, ‘এই আনারস চাষে কোনো সার, কীটনাশক, সেচ ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। এ পর্যন্ত আমি ৩০-৩৫ টাকা করে ৫০০ আনারস বিক্রি করেছি। সব মিলিয়ে এবার ২৫ হাজার টাকার মতো আনারস বিক্রি হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন