রাজশাহীতে এক্সকাভেটরের নিচে ফেলে কৃষক হত্যা মামলার আসামি পুকুর খনন চক্রের হোতা গ্রেপ্তার
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় কৃষক আহমেদ জোবায়ের (২৩) হত্যা মামলার আসামি বিপ্লব হোসেনকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল বুধবার মধ্যরাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ওয়াপদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৫–এর সদর কোম্পানি ও র্যাব-১০–এর ফরিদপুরের সিপিসি-৩–এর একটি দল যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার বিপ্লবের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের ধাতুড়িয়া গ্রামে। তিনি এলাকায় পুকুর খনন চক্রের হোতা। এ ঘটনায় জড়িত দুই বিএনপি নেতা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে র্যাব-৫–এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার বিপ্লব মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁকে মোহনপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
সম্প্রতি মোহনপুরের ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা বিলে কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে পুকুর কাটতে শুরু করেছিল একটি চক্র। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে পুকুর কাটার সময় শতাধিক গ্রামবাসী গিয়ে বাধা দেন। তখন এক্সকাভেটর চালক আবদুল হামিদ যন্ত্রটির বাকেট (মাথা) চারপাশে ঘোরাতে থাকেন, যেন গ্রামবাসী তাঁর কাছে যেতে না পারে। এ সময় বাকেটে মাথায় আঘাত পেয়ে পড়ে যান আহমেদ জোবায়ের। চালক এক্সকাভেটর নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে জোবায়ের গায়ের ওপর দিয়ে এক্সকাভেটর চালিয়ে দেন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন চালক আবদুল হামিদকে আটক করে পুলিশে দেন।
এ ঘটনায় নিহত জোবায়েরের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৮ ডিসেম্বর মোহনপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে শুধু এক্সকাভেটর চালক আবদুল হামিদকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছিল। পরে আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন। তাঁরা অবৈধভাবে পুকুর খননে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। দলীয় প্রভাবের কারণে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম। সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। মৌখিকভাবে বলে দিয়েছি, ওই দুজন যেন দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ না নেয়। আমরা পুলিশকেও বলেছি, তাঁদের যেন গ্রেপ্তার করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ আমাদেরই বলছে যে তাঁরা কোথায় আছেন তা আমাদের জানাতে হবে। এটা তো পুলিশের কাজ। কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা পুলিশই বলতে পারবে।’
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, ‘আমরা এক্সকাভেটর চালককে ঘটনার পর আটক করেছিলাম। তারপর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি। পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। আশা করছি, দু–এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে খবর দিতে পারব।’