রাজশাহীতে ৯ বছরের মধ্যে আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
রাজশাহী জেলায় আজ সোমবার বেলা ৩টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি গত ৯ বছরের মধ্যে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগে ২০১৪ সালের ২১ মে একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস।
রাজশাহীতে গত ১৩ দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়ছে। সেই তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যায় গত শনিবার। সে দিন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন ছিল জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে গতকাল রোববার আবার তাপমাত্রা বেড়ে হয় ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর একদিন পরই আজ জেলায় মৌসুমের এবং গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে।
সাধারণত তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মৃদু, আর তার বেশি ৩৮ ডিগ্রি হলে তা মাঝারি আর ৪০ ডিগ্রি হলে তা তীব্র তাপপ্রবাহ। আর এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। সে ক্ষেত্রে রাজশাহীতে আজ অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল ৩ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। তখন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রিতে নেমে আসে। পরে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। গত প্রায় ১৩ দিনের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে প্রতিদিনই তাপমাত্রা বেড়েছে রাজশাহীতে। তবে শুধু গেল শনিবার তাপমাত্রা কমেছে। এরপর আবার বাড়তে শুরু করেছে। রাজশাহীতে গত সোমবার ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গত মঙ্গলবার ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গত বুধবার ৩৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গত বৃহস্পতিবার ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গত শুক্রবার ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গত শনিবার ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি, গতকাল ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে সকালে আর্দ্রতা ছিল ৮৫ শতাংশ, বেলা ৩টায় মাত্র ১৮ শতাংশ।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক রাজিব খান প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৪ সালে একবার ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এরপর গত বছর সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি। এই কয়েক বছরে তাপমাত্রা এর আশপাশেই ছিল। এর আগে ২০০৫ সালে ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। রাজশাহীর ইতিহাসে ১৯৭২ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল সর্বোচ্চ ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।
এদিকে অতি তীব্র দাবদাহে জনজীবনে অস্বস্তি নেমে এসেছে। আজ দুপুরে নগরের বুধপাড়া এলাকায় কথা ইউনুস আলীর সঙ্গে। প্রচণ্ড গরমে দোকান ছেড়ে তিনি গাছতলায় বসে ছিলেন। তিনি বলেন, এই গরমে শরীর, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। শ্বাস নেওয়া কষ্ট হচ্ছে। গলাও ব্যথা হচ্ছে।
চৌদ্দপায় এলাকায় এক শ্রমিক ভেজা গামছা মাথায় বেঁধে কাজ করছিলেন। বললেন, এই ভেজা গামছা শুকাতে ১০ মিনিটও সময় লাগছে না।