রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে উজানচর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল চর মহিদাপুর ও চর মজলিশপুর। টানা কয়েক দিন কুয়াশার পর আজ বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে হালকা রোদের ঝিলিক দেখতে পান চরাঞ্চলের মানুষ। খোলা জায়গা আর পদ্মার পাড় হওয়ায় কনকনে শীত বয়ে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সেখানে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় কম্বল।
বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে চর মহিদাপুর আশ্রয়কেন্দ্রের মাঠে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শীতার্ত ১৫০ জনকে এই কম্বল দেওয়া হয়। মহিদাপুর, মজলিশপুর, ইছহাক মুন্সীর পাড়া ও সোবহান ফকির পাড়ার শীতার্ত অসহায় মানুষেরা কম্বল পেয়ে খুশি। কম্বলগুলো দিয়ে সহযোগিতা করেছে ইলেক্ট্রোমার্ট লিমিটেড।
কম্বল পেয়ে চর মজলিশপুর থেকে আসা রাবেয়া বেগম (৮০) বলেন, ‘এই যে শীত আইছে, অহন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো কম্বল আসে নাই। রাতের বেলা ঠিকমতো ঘুমাইতেও পারি না। ঠান্ডায় হাত-পা কুটা লাইগা আসে। তয় আজকে ঘুমটা ভালো কইরা আরামে দিতে পারমো।’
প্রায় শত বছর বয়সী মহিদাপুর আশ্রয়কেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা অহেদ আলী মণ্ডল বলেন, ‘টালের ঠ্যালায় রাইতে ঘুমাইতে পারি না। এত টাল গেল, এই চরে কেউ একটা কম্বল পাইল না। আপনারাই পরথম কম্বল দিলেন। রাইতের বেলায় কেউ বাইরেতে পারি না রে, বাবা। তোমাগোর জন্য দোয়া করি।’
সোবহান ফকির পাড়ার আজিত সরদার (৯০) বলেন, ‘বাবা, আর পারছিলাম না। এই বছর আপনারাই পরথম কম্বল দিলেন। অহন রাইতের বেলায় কম্বলডা গায় দিয়া আরাম পাবানি।’
মজলিশপুর এলাকার আজিজুল হক বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও সরকারি বা বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কেউ আসেনি। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এর আগে বর্ষাকালে ত্রাণ দেওয়া হয়েছিল। এবার কম্বল দেওয়া হলো। দুর্গম অঞ্চল বলে এখানে কেউ আসতে চায় না।
কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন মজলিশপুর জয়নাল মৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিলন গায়ান, প্রথম আলো রাজবাড়ী প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক, গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সভাপতি জাকির হোসেন, সাবেক সভাপতি অম্বরেশ চক্রবর্তী, সহসভাপতি হুমায়ুন আহম্মেদ, সহসভাপতি মইনুল হক, সাধারণ সম্পাদক শফিক মণ্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, বন্ধুসভার সাবেক বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক আদ্রিতা রায়হান, গোয়ালন্দ সাংবাদিক ফোরামের সদস্যসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগান্তর প্রতিনিধি শামীম শেখ প্রমুখ।
শীতার্তদের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসুন:
শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।