উদ্ধার হওয়া ১৮ জনের সবাই রোহিঙ্গা, নিখোঁজ অন্তত ৯

ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে উদ্ধার হওয়া ১৪ যাত্রী। তাঁরা সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক। আজ দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে তোলাছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে গেছে। পরে স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে বিজিবি। ট্রলারটিতে ২৭ থেকে ৩১ জন যাত্রী ছিলেন বলে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা দাবি করেছেন।

আজ শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সৈকত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার ব্যক্তিদের শাহপরীর দ্বীপ বিজিবি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার জেলে সুলতান আহমদ বলেন, কয়েক দিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছিলেন না। সকালে ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি ডুবে গেলে স্থানীয় জেলেরা দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে ১৮ জনকে উদ্ধার করেন। ট্রলারে থাকা অনেকেই এখনো নিখোঁজ।

বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে ৪ জন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। তাঁরা হলেন নুর আলম (৩৭), জাহেদ হোসেন (৪২), সৈয়দ নুর (২৭) ও নুর কামাল (৪০)। আর বাকি ১৪ জন হলেন কাশেম আলী (২৫), আয়াত উল্লাহ (৩৬), মো. জাবের (২৫), নীর আহমদ (২৪), রহিম উল্লাহ (৩৮), রোজি উল্লাহ (২৪), আবুল হাশেম (৩৫), মো. হোসেন (৩০), মো. আয়াছ (২৩), শফিউল্লাহ (২৫), এনামুল হাসান (২২), মো. ইউনুস (২৬), নবী হোসেন (২০) ও কামাল হোসেন (২৩)।

ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে উদ্ধার হওয়া চারজন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন। আজ দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে তোলা
ছবি: সংগৃহীত

উদ্ধার ব্যক্তিদের একজনের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) সদস্য হওয়ার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মিয়ানমার থেকে ট্রলারটি টেকনাফের দিকে আসছিল। শাহপরীর দ্বীপ উপকূলে পৌঁছানোর পর এটি ডুবে যায়। ট্রলারে ঠিক কতজন ছিলেন এবং তাঁদের গন্তব্য কোথায় ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজিবি উদ্ধার ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।