ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এসব ভুয়া: গোলাম পরওয়ার
নির্বাচন সামনে রেখে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর নামে নতুন করে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আরেক প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড—এসব কার্ড ভুয়া, ভুয়া। দেশে মানুষ ১৮ কোটি, আর তারা বলছে ৫০ কোটি কার্ড দেবে। মিথ্যার ওপর মিথ্যা, ডবল মিথ্যা।’
রোববার দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শলুয়া বাজারে এক নির্বাচনী সভায় এ কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘কার্ড দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। কার্ডে কী পাওয়া যাবে? কেউ বলছে ৪ হাজার টাকা, কেউ বলছে ২০ বা ২১ হাজার টাকা। কেউ বলছে চাল-গম, তেল চিনি, রেশন পাবা। আসলে কী দেবে, কেউ জানে না। ঘোড়ার ডিম দেবে। পুরোটাই ভুয়া।’
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ এলাকায় কার্ড বিলির ভিডিও প্রমাণ সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশন সচিবের কাছে পাঠিয়েছি। আমি জিজ্ঞেস করেছি, এটা কি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়? আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা আছে, নির্বাচনের আগে কোনো দল বা প্রার্থী জনগণকে অনুদান বা লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না।’
কোথাও কোথাও নারী ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘মানুষ টাকা নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সব বোঝে। আজ যারা এই সভায় এসেছে, তাদের কাউকে আমরা টাকা দিইনি। মানুষ নিজের পয়সায় ভ্যানভাড়া দিয়ে এসেছে। কারণ, তারা জানে, এই লড়াই ন্যায় ও ইনসাফের।’
রোববার দিনব্যাপী খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার শলুয়া বাজার, গজেন্দ্রপুর, রামকৃষ্ণপুর, চুকনগর বাজার, আন্দুলিয়া ও কৃষ্ণনগরে পৃথক পৃথক গণসংযোগ ও নির্বাচনী জনসভা ও মিছিলে অংশ নেন গোলাম পরওয়ার।
এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ইঙ্গিত করে জামায়াতের নেই নেতা বলেন, রাস্তার পাশে বাদাম বিক্রি করে, ছোটখাটো দোকানদারি করে—এমন মানুষের কাছ থেকেও চাঁদা তোলা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর ডুমুরিয়ায় প্রকাশ্য চাঁদাবাজি হয়েছে। প্রশ্ন হলো, কারা করেছে? ওই সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না। ৫ তারিখের পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশ ছেড়ে চলে গেলেন। আওয়ামী লীগ তখন ছিল না। তাহলে দোকান ভাঙচুর, চাঁদাবাজি কারা করল?
গণসংযোগের সময় গোলাম পরওয়ার জানান, এই ডুমুরিয়া-ফুলতলা অতীতে চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীরা শান্তি কেড়ে নিয়েছিল। সন্ধ্যার আগে মানুষ বাড়িঘরে ফিরে যেত। তখন সংসদ সদস্য হয়ে সন্ত্রাস নির্মূলের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও চরমপন্থী নির্মূল করতে গিয়ে আমাকে চিঠি দিয়ে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হতো। আমি জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়ে ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়ন তখন চরমপন্থীমুক্ত করেছিলাম। গত ২০ বছর আমি না থাকায় আবারও ওই সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা আবার এই ডুমুরিয়া চরমপন্থী সন্ত্রাসীমুক্ত করব ইনশা আল্লাহ।’