নেত্রকোনায় খাদ্যগুদামে মিলল অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ টন চাল, গুদাম সিলগালা

নেত্রকোনার মদনে গত শনিবার বিকেলে গুদামটি সিলগালা করেছে খাদ্য বিভাগছবি: প্রথম আলো

নেত্রকোনার মদনে সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে পাচারের অভিযোগে ২০ টন চাল জব্দের ঘটনার পর তদন্তে আরও প্রায় ৪৩ টন ৫৬০ কেজি অতিরিক্ত চালের সন্ধান পাওয়া গেছে। পরে গত শনিবার বিকেলে গুদামটি সিলগালা করেছে খাদ্য বিভাগ।
গতকাল রোববার খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক সেলিমুল আজম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ, খাদ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মদন উপজেলা থেকে ৬৬৭ বস্তায় ২০ টন সরকারি চাল ট্রাকে করে বারহাট্টা উপজেলার একটি রাইস মিলে নেওয়া হচ্ছিল। কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে চালগুলো পাচার করা হচ্ছে—এমন তথ্য পেয়ে নেত্রকোনা-মদন সড়কের হাঁসকুঁড়ি মৈধাম এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।

আরও পড়ুন

পরে সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে সরকারি সিলযুক্ত বস্তাভর্তি ট্রাকটি জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকারীকে আটক করে পুলিশ।

ওই ঘটনায় গত শুক্রবার সকালে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় আটক ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারী ছাড়াও মদন উপজেলার মনোহরপুর এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়।

এরপর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি গত শনিবার বিকেলে খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজম তদন্ত শুরু করেন।

তদন্তকালে গুদামের ধান ও চালের মজুত মিলিয়ে দেখা হলে হিসাবের বাইরে অতিরিক্ত ৪৩ দশমিক ৫৬০ কেজি চাল পাওয়া যায়। এ ছাড়া গুদাম ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের অসংগতিও ধরা পড়ে।

সেলিমুল আজম সাংবাদিকদের বলেন, অতিরিক্ত পাওয়া চাল গুদামের মজুতের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আর আগে জব্দ হওয়া ২০ টন চালের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই চালের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি তদন্তাধীন জানিয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।